ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে ভক্তদের হাতে বিপুলসংখ্যক লাল পতাকা দেখা গেছে। এই পতাকাগুলোকে প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, দাফন অনুষ্ঠান চলাকালে কোনো ধরনের হামলা হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ এসলামি বলেন, খামেনির দাফনে ব্যবহৃত লাল পতাকা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এর মাধ্যমে সমর্থকরা সরকারের কাছে সাবেক সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।
তিনি বলেন, যারা তাদের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন ভক্তরা। তার ভাষায়, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি শুধু রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন না, বরং ইরানের রাজনৈতিক ও আদর্শিক কাঠামোর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ছিলেন।
এদিকে দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা লাখো মানুষের জন্য দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনায় পাঁচ হাজারের বেশি স্কুল এবং প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার শ্রেণিকক্ষ আগত শোকাহত মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনির শেষ বিদায়ে অংশ নিতে ১০০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি এবং লাখো মানুষ তেহরানে সমবেত হয়েছেন।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি কে ছিলেন?
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ১৯৩৯ সালে উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের সময় তিনি রাজতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন।
১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে দেশের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন এবং দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের সামরিক, রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কাঠামোকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তার মৃত্যুর পর নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তার ছেলে মোজতবা খামেনি। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পরও তিনি এখনো জনসমক্ষে উপস্থিত হননি।