ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের জন্য ‘ক্লোজ ফ্রেন্ডস’ ফিচারে নতুন সুবিধা যোগ করার পরিকল্পনা করছে মেটা। প্রস্তাবিত এই ফিচার চালু হলে, কোনো ব্যবহারকারী চাইলে অন্য কারও ‘ক্লোজ ফ্রেন্ডস’ তালিকা থেকে নিজেই সরে যেতে পারবেন। এর ফলে কারও সীমিত পরিসরে শেয়ার করা কনটেন্ট আর দেখতে হবে না অনিচ্ছাকৃতভাবে।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চকে মেটার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফিচারটি এখনো প্রাথমিক উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালু করা হয়নি।
কী ‘ক্লোজ ফ্রেন্ডস’?
ইনস্টাগ্রামের ‘ক্লোজ ফ্রেন্ডস’ ফিচারটি চালু হয় ২০১৮ সালে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের স্টোরি, রিলস কিংবা নির্দিষ্ট পোস্ট বেছে নেওয়া কিছু মানুষের সঙ্গে আলাদাভাবে শেয়ার করতে পারেন। ব্যক্তিগত বা সীমিত দর্শকের জন্য কনটেন্ট শেয়ারের ক্ষেত্রে এটি বেশ জনপ্রিয় একটি ফিচার।
তবে এতদিন পর্যন্ত কোনো ব্যবহারকারী যদি অন্যের ‘ক্লোজ ফ্রেন্ডস’ তালিকায় যুক্ত থাকতেন, তাহলে সেখান থেকে নিজ উদ্যোগে বেরিয়ে আসার কোনো সুযোগ ছিল না।
যেভাবে জানা গেল নতুন ফিচারের কথা
অপ্রকাশিত ফিচার খুঁজে বের করার জন্য পরিচিত রিভার্স ইঞ্জিনিয়ার আলেসান্দ্রো পালুজ্জি প্রথম এই পরিবর্তনের আভাস দেন। ইনস্টাগ্রাম অ্যাপের অভ্যন্তরীণ কোড বিশ্লেষণ করে তিনি নিয়মিত সম্ভাব্য নতুন ফিচারের তথ্য প্রকাশ করে থাকেন।
তার শেয়ার করা স্ক্রিনশট অনুযায়ী, কোনো ব্যবহারকারী যদি কারও ‘ক্লোজ ফ্রেন্ডস’ তালিকা ছেড়ে দেন, তাহলে তিনি আর সেই ব্যক্তির ক্লোজ ফ্রেন্ডস-ভিত্তিক স্টোরি বা কনটেন্ট দেখতে পারবেন না। ভবিষ্যতে আবার সেই কনটেন্ট দেখতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীকে নতুন করে তালিকায় যুক্ত করতে হবে।
স্বস্তি না অস্বস্তি—দুই দিকই আছে
এই ফিচার নিয়ে ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে। কেউ কেউ মনে করতে পারেন, তাদের ঘনিষ্ঠ তালিকা থেকে কেউ নিজে থেকে সরে গেলে সেটি বিব্রতকর হতে পারে।
অন্যদিকে অনেক ব্যবহারকারীর জন্য এটি হতে পারে স্বস্তির বিষয়। কারণ সবাই সব সময় নির্দিষ্ট কারও ব্যক্তিগত শেয়ারিংয়ের অংশ হতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। ডিজিটাল পরিসরে নিজের সীমা নিজে নির্ধারণের সুযোগ হিসেবে এটি ইতিবাচকভাবেই দেখছেন অনেকে।
প্রতিযোগীদের তুলনায় ইনস্টাগ্রাম
ইনস্টাগ্রামের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী স্ন্যাপচ্যাটে আগে থেকেই এ ধরনের সুবিধা রয়েছে। সেখানে ব্যবহারকারীরা চাইলে অন্যের প্রাইভেট স্টোরি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে পারেন। সেই তুলনায় ইনস্টাগ্রাম এতদিন এই দিক থেকে কিছুটা পিছিয়েই ছিল।
তবে এই ফিচারটি শেষ পর্যন্ত সবার জন্য চালু হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি মেটা। অনেক ক্ষেত্রেই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো অভ্যন্তরীণভাবে নানা ফিচার নিয়ে পরীক্ষা চালালেও সেগুলোর সব ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয় না।
সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক নতুন সুবিধার ইঙ্গিত
এদিকে ‘ক্লোজ ফ্রেন্ডস’ ছাড়াও ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের জন্য নতুন সাবস্ক্রিপশন সুবিধা পরীক্ষার পরিকল্পনা করছে মেটা। এসব সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা বাড়তি নিয়ন্ত্রণ ও বিশেষ ফিচার পেতে পারেন।
পালুজ্জির তথ্য অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রামের সম্ভাব্য প্রিমিয়াম সংস্করণে থাকতে পারে অসীম সংখ্যক অডিয়েন্স লিস্ট তৈরির সুযোগ, কে ফলো ব্যাক করেনি তা দেখার সুবিধা এবং স্টোরি দেখা হলেও পোস্টদাতা যেন তা জানতে না পারেন—এমন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।
মেটার ভাষ্য অনুযায়ী, প্ল্যাটফর্মগুলোর মূল ব্যবহার সবার জন্য বিনা মূল্যে রাখাই তাদের লক্ষ্য। তবে যারা অতিরিক্ত সুবিধা ও নিয়ন্ত্রণ চান, তাদের জন্য সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক মডেল চালুর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।