বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ক্রুড অয়েল সংকট কাটায় ৭ মে থেকে উৎপাদনে ফিরছে ইস্টার্ন রিফাইনারি

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ৪ মে, ২০২৬

দীর্ঘদিনের ক্রুড অয়েল সংকট কাটিয়ে আবারও উৎপাদনে ফিরতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার Eastern Refinery PLC। আগামী ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেল আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল রিফাইনারিটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এতে পুরো উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আবার সচল হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে Chittagong Port-এ পৌঁছাবে। এরপর তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন শুরু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আপাতত বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে, ফলে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Bangladesh Petroleum Corporation (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের ‘এরাবিয়ান লাইট’ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘মারবান’ ধরনের ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। দেশের চাহিদা মেটাতে প্রতিবছর প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হয়ে থাকে।

তবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে পৌঁছায়নি। ফলে ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় রিফাইনারিটি।

পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে করে নতুন চালান দেশে আসছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস কার্যক্রম শুরু হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, রিফাইনারির উৎপাদন পুনরায় চালু হওয়ায় দেশের জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং বাজারে চাপ কমবে।