বৃহস্পতিবার , ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ৯ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে ৬ মসলা, জানুন কোনগুলো

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

 

খাবারে স্বাদ, রং ও সুগন্ধ বাড়াতে মসলার ব্যবহার বহু পুরোনো। তবে রান্নার স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি কিছু মসলায় থাকা প্রাকৃতিক উদ্ভিদ যৌগ হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য ভূমিকা রাখতে পারে। অবশ্যই মনে রাখতে হবে, মসলা উচ্চ কোলেস্টেরলের চিকিৎসার বিকল্প নয়; বরং সুষম খাদ্য ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে এগুলো উপকারী হতে পারে।

গবেষণায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কিছু মসলার সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতার কথা উঠে এসেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছয়টি হলো—

১. রসুন
রসুনে অ্যালিসিনসহ বিভিন্ন সালফার যৌগ রয়েছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত রসুন গ্রহণ নির্দিষ্ট কিছু মানুষের মোট কোলেস্টেরল ও এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়তা করতে পারে। এটি রক্তচাপ ও রক্তনালীর স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে।

২. হলুদ
হলুদের সক্রিয় উপাদান কারকিউমিনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। প্রদাহ হৃদরোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায়, হলুদ সামগ্রিক হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যে সহায়ক হতে পারে। কিছু গবেষণায় কোলেস্টেরলের মাত্রার ওপর কারকিউমিনের সামান্য ইতিবাচক প্রভাবের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

৩. দারুচিনি
দারুচিনির কিছু প্রাকৃতিক যৌগ রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের জন্য গবেষণা করা হয়েছে। কিছু গবেষণায় নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে এলডিএল কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমানোর সম্ভাবনা দেখা গেছে। তবে গবেষণার ফল একরকম নয়, তাই উচ্চ কোলেস্টেরলের চিকিৎসা হিসেবে শুধু দারুচিনির ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

৪. আদা
আদায় থাকা জিঞ্জেরল ও শোগাওল নামের যৌগের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কিছু গবেষণায় আদা কোলেস্টেরলের মাত্রা ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর রক্তসঞ্চালন বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

৫. মেথি
মেথিতে দ্রবণীয় ফাইবার রয়েছে, যা পরিপাকতন্ত্রে কোলেস্টেরল শোষণ কমাতে সহায়তা করতে পারে। কিছু গবেষণায় মেথি এলডিএল কোলেস্টেরল কমানো এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য উপকার দেখিয়েছে। তবে এ বিষয়ে আরও বড় পরিসরের গবেষণা প্রয়োজন।

৬. গোলমরিচ
গোলমরিচে পাইপেরিন নামের একটি প্রাকৃতিক যৌগ রয়েছে। এটি কিছু পুষ্টি উপাদান, বিশেষ করে হলুদের কারকিউমিনের শোষণ বাড়াতে পারে। শুধু গোলমরিচ উল্লেখযোগ্যভাবে কোলেস্টেরল কমায়—এমন শক্ত প্রমাণ নেই। তবে অতিরিক্ত লবণের পরিবর্তে খাবারে গোলমরিচ ব্যবহার করলে স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

সবশেষে, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে শুধু কোনো একটি মসলা বা খাবারের ওপর নির্ভর না করে কম স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত সুষম খাদ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। যাদের কোলেস্টেরল বেশি, তারা চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ নিজের ইচ্ছায় বন্ধ বা পরিবর্তন করবেন না।