বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

কোটি টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ, ৯ দিন পর ব্যবসায়ী উদ্ধার

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬

যশোরে এক কোটি টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ওষুধ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমকে (৪৫) অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে র‍্যাব। নিখোঁজ হওয়ার ৯ দিন পর বুধবার (১১ মার্চ) রাতে চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের খলশি গ্রামে এক অভিযানে নির্জন ইটভাটা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার করা হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে যশোর র‍্যাব ক্যাম্পে আনা হয় এবং পরে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‍্যাব-৬ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ টি এম ফজলে রাব্বী প্রিন্স।

গত ২ মার্চ রাতে যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় অবস্থিত ‘আর আর মেডিকেল’ ও ‘জে আর এগ্রোভেট’ নামে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে মোটরসাইকেলে করে ধর্মতলা সুজলপুর এলাকার নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন জাহাঙ্গীর আলম। পথিমধ্যে দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।

অপহরণের পর রাত ১০টার দিকে অপহরণকারীরা জাহাঙ্গীরের মোবাইল ফোন থেকে তার মা ও স্ত্রীর কাছে কল করে। এ সময় তাকে জীবিত ফেরত পেতে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং বিষয়টি পুলিশকে না জানাতে হুমকি দেওয়া হয়।

এদিকে, ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় গত ৪ মার্চ বিকেলে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেন জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী রেশমা খাতুন। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামীই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিন মেয়েকে নিয়ে আমরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। উনার সঙ্গে কারো কোনো শত্রুতা ছিল না। এ সময় তিনি তার স্বামীকে জীবিত উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করেন।

বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বুধবার দিবাগত গভীর রাতে চৌগাছা উপজেলার খলশি গ্রামের একটি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

র‍্যাব-৬ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ টি এম ফজলে রাব্বী প্রিন্স বলেন, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অপহরণের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রটিকে আটকের চেষ্টা চলছে।