বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

কুরআন হাতে শপথ করিয়ে সাজ্জাদ বাহিনীতে সদস্য অন্তর্ভুক্তি, তিনজন গ্রেপ্তার

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত সাজ্জাদ পরিচালিত ‘সাজ্জাদ বাহিনী’-তে নতুন সদস্যদের কুরআন হাতে শপথ করিয়ে দলে নেওয়া হতো বলে জানিয়েছে পুলিশ। শপথের সেই ভিডিও দুবাইয়ে অবস্থানরত সাজ্জাদের কাছে পাঠিয়ে অনুমোদন নেওয়া হতো।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী।

ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, সাজ্জাদ বাহিনীর তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী (রিমন), মনির এবং সায়েম। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলোর কিছু থানা লুটের সময় নেওয়া হয়েছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার রিমনের কাছ থেকে উদ্ধার করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়—নতুন সদস্যরা কুরআন হাতে নিয়ে সাজ্জাদ বাহিনীর প্রতি আনুগত্যের শপথ নিচ্ছেন। ভিডিওতে এক যুবককে বলতে শোনা যায়, জীবন-মরণ যাই ঘটুক না কেন, সাজ্জাদ ভাইয়ের সঙ্গে কোনো বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে না। নিরাপত্তার স্বার্থে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের মুখ ঝাপসা করা ছিল বলে জানানো হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের চন্দনপুরা এলাকায় সাবেক সংসদ সদস্য সিআইপি মুজিবুর রহমান-এর বাসায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় সাজ্জাদ বাহিনীর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, দুবাইয়ে অবস্থানরত সাজ্জাদ দীর্ঘদিন ধরে মুজিবুর রহমানের কাছে প্রথমে ১০ কোটি টাকা এবং পরে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করছিলেন। চাঁদা না পাওয়ায় জানুয়ারিতেও ওই বাসায় গুলিবর্ষণ করা হয়।

এ ঘটনায় হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ লিখে হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীদের হাতে পিস্তল, এসএমজি, চায়নিজ রাইফেল ও শটগান দেখা যায়।

অভিযানের সময় গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাহাড়তলী থানা থেকে লুট হওয়া একটি বিদেশি রিভলভার ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ডবলমুরিং থানায় লুট হওয়া একটি ব্রাজিলিয়ান টরাস ৯ মিলিমিটার পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। সায়েমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী খুলশী এলাকা থেকে একটি এসএমজি, দুটি ম্যাগাজিন ও ৫০ রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশের ধারণা, চন্দনপুরার গুলিবর্ষণের ঘটনায় এসব অস্ত্র ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ব্যালিস্টিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

পুলিশ কর্মকর্তা ওয়াহিদুল হক চৌধুরী জানান, বড় সাজ্জাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ রয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধেও হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং বাকি অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।