বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

কিউবাকে ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা, ট্রাম্পের বক্তব্যে হামলার শঙ্কা

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

ক্যারিবীয় দ্বীপদেশ কিউবা–কে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও–এর সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম Axios

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এক্সিওস জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন কিউবা সরকারের ওপর ধারাবাহিকভাবে চাপ বাড়াচ্ছে এবং সামরিক হুমকির বিষয়টিও ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত তৈরি হতে পারে।

ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ১৯৬২ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন কিউবায় পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করলে যুক্তরাষ্ট্র তা নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে। পরে ওয়াশিংটন কিউবার ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করে, যা ‘কিউবান মিসাইল সংকট’ নামে পরিচিত হয়। বর্তমান পরিস্থিতি সেই সময়ের পর সবচেয়ে বড় উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহে CNN এক প্রতিবেদনে জানায়, ফেব্রুয়ারি থেকে কিউবার আকাশসীমার আশপাশে নজরদারি বিমান মোতায়েন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে ওয়াশিংটন দেশটির বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে।

এর প্রতিক্রিয়ায় কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, এসব পদক্ষেপ মূলত সাধারণ মানুষের ওপর ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ চাপিয়ে দেওয়ার সামিল। মার্কিন জ্বালানি অবরোধের কারণে দেশটির অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ গত কয়েক মাসে আরও সংকটে পড়েছে বলেও জানা যায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নিকোলাস মাদুরো–কে ঘিরে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার পর কিউবার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। কারণ দেশটির জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নির্ভরশীল।

তবে পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন বার্তাও পাওয়া গেছে। লুলা দা সিলভা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে তাকে বলেছেন যে কিউবায় হামলার কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

এরপরও উত্তেজনা কমেনি। গত শুক্রবার ট্রাম্প জানান, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফেরানো একটি মার্কিন রণতরী কিউবার কাছাকাছি মোতায়েন করা হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প মনে করেন—কিউবার কাছে শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি তৈরি করা হলে হাভানা দ্রুত চাপের মুখে পড়বে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যকার এ নতুন উত্তেজনা শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই নয়, পুরো লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।