বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

কাউকে ইলিশ চাষের অনুমতি দেওয়া হয়নি: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম (আরএএস) কিংবা অন্য কোনো ইনডোর, সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত ও নিবিড় পদ্ধতিতে ইলিশ মাছ চাষের বিষয়ে সরকারের কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত বা অনুমোদন নেই। ফলে এ ধরনের পদ্ধতিতে ইলিশ চাষ বা সংশ্লিষ্ট কোনো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইলিশ মাছের ইনডোর বা কৃত্রিম পরিবেশে চাষ সংক্রান্ত নানা তথ্য ও আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। এসব তথ্যের প্রেক্ষিতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

এ লক্ষ্যে গত ১ ফেব্রুয়ারি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম (আরএএস) ব্যবহার করে ইলিশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ চাষ সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আলোচনায় উঠে আসে, ইলিশ মাছ বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য। দেশের নদী ও উপকূলীয় প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র, খাদ্য নিরাপত্তা, ঐতিহ্য এবং বিপুলসংখ্যক জেলে ও মৎস্যজীবীর জীবিকার সঙ্গে ইলিশ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ইলিশের উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা মূলত প্রাকৃতিক প্রজনন চক্র ও নদীনির্ভর পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এ সংক্রান্ত যেকোনো উদ্যোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল ও নীতিনির্ভর বিষয় বলে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও স্পষ্ট করে জানানো হয়, বর্তমানে আরএএস কিংবা অন্য কোনো ইনডোর, সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত ও নিবিড় পদ্ধতিতে ইলিশ মাছ চাষের বিষয়ে সরকারের কোনো অনুমোদন নেই। ফলে এ ধরনের পদ্ধতিতে ইলিশ চাষ বা সংশ্লিষ্ট কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা অননুমোদিত ও গ্রহণযোগ্য নয়

মন্ত্রণালয় জানায়, ইলিশ সংক্রান্ত যেকোনো গবেষণা, পরীক্ষামূলক উদ্যোগ বা প্রযুক্তিগত কার্যক্রম অবশ্যই বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও জাতীয় স্বার্থের আলোকে এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে পরিচালিত হতে হবে।

এছাড়া, বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সরকার থেকে অনুমোদিত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর আস্থা রাখার জন্য জনগণ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম (আরএএস) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইলিশ মাছ চাষের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান এ্যাসেনটপ্ট অ্যাকুয়া ও প্রাণ-আরএফএলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হবিগঞ্জ অ্যাগ্রো লিমিটেডের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কথাও জানানো হয়। তবে মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ ঘোষণায় এ বিষয়ে সরকারের কোনো অনুমোদন নেই বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।