বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

কাঁটাবনের আল বারাকা টাওয়ারে ভয়াবহ আগুন: ধোঁয়ায় দগ্ধ হয়ে দুই ক্লার্কের মৃত্যু

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬

রাজধানীর কাঁটাবনের আল বারাকা টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মো. জনি (২৪) ও আবদুস সালাম (২০) নামে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৫ মিনিটে ভবনটিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ৩টা ৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনের ১০ম ও ১১তম তলায় ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। সেখান থেকে দগ্ধ ও ধোঁয়ায় আক্রান্ত অবস্থায় জনি ও আবদুস সালামকে উদ্ধার করা হয়। আবদুস সালামকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে জনিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলে সেখানেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালে নিহতদের নিয়ে আসা মো. নাজমুল ও সরোয়ার জানান, আগুন লাগার পর মুহূর্তেই ভবনের ভেতরে ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এতে তারা গুরুতর আহত হন এবং পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নিহত আবদুস সালামের বাড়ি বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলার বড় ভাদাহার এলাকায়। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমানের ক্লার্ক হিসেবে আল বারাকা টাওয়ারের ১১তম তলায় কর্মরত ছিলেন। অপরদিকে জনির বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বাবুন্দিয়া গ্রামে। তিনি সাবেক উপদেষ্টা হাসান আরিফের ছেলে ব্যারিস্টার মোয়াজের ক্লার্ক হিসেবে কাজ করতেন।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ দুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।

এদিকে, আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে এবং এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।