বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

কর্ণফুলীতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: পিকআপের ধাক্কায় প্রাণ গেল শিক্ষক ও তার বাবার

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে শাহ আমানত সেতুর প্রথম সিঁড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের একজন স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতরা হলেন আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের সিংহরা গ্রামের বাসিন্দা দুর্গাপদ মল্লিক (৭০) এবং তার ছেলে বিধান মল্লিক (৪৭)। বিধান মল্লিক কর্ণফুলীর দৌলতপুর বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। তারা চট্টগ্রাম নগরের পাথরঘাটা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল আটটার দিকে নতুন সেতু এলাকা থেকে মইজ্জ্যারটেকের দিকে যাচ্ছিল একটি মোটরসাইকেল ও একটি পিকআপ ভ্যান। শাহ আমানত সেতুর প্রথম সিঁড়ি এলাকায় পৌঁছালে দুটি যানবাহনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলের পেছনে বসা দুর্গাপদ মল্লিক ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

গুরুতর আহত অবস্থায় মোটরসাইকেলচালক বিধান মল্লিককে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মইজ্জ্যারটেক ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ আবু সাঈদ বাকের জানান, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জামাল উদ্দীন বলেন, সেতু থেকে নামার সময় দ্রুতগতির পিকআপটি মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার পর দুর্গাপদ মল্লিক পিকআপের নিচে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে তার ছেলে বিধান মল্লিককে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

নিহতের স্বজন বাবলা মল্লিক জানান, বিধান মল্লিক মোটরসাইকেলে করে তার বাবাকে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন। বাবাকে নামিয়ে দিয়ে পরে স্কুলে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু পথেই দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলে দুজনেরই প্রাণহানি ঘটে।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দীন তালুকদার জানান, আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকরা বিধান মল্লিককে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার বাবা দুর্গাপদ মল্লিকের মরদেহও হাসপাতালে আনা হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সহকর্মীদের কাছেও ঘটনাটি গভীর বেদনার জন্ম দিয়েছে।