বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

কদমতলীতে অগ্নিঝড়, দ্রুত নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬

রাজধানীর কদমতলী এলাকায় একটি গ্যাসলাইটার তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা মুহূর্তের মধ্যেই চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে হঠাৎ করেই কারখানাটিতে আগুনের সূত্রপাত হলে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে দ্রুত কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় পুরো এলাকা, সৃষ্টি হয় এক ভীতিকর পরিস্থিতি।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে রওনা হয় তাদের ইউনিটগুলো। প্রাথমিকভাবে কয়েকটি ইউনিট কাজ শুরু করলেও আগুনের ভয়াবহতা বিবেচনায় একে একে মোট ৭টি ইউনিট যুক্ত করা হয়। দ্রুততার সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যান ফায়ার ফাইটাররা।

চোখে পড়ার মতো বিষয় ছিল, আগুন লাগার পরপরই স্থানীয় লোকজনও আগুন নেভানোর কাজে সহায়তার চেষ্টা করেন। তবে আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে পেশাদার সহায়তাই ছিল একমাত্র ভরসা। কারখানাটিতে থাকা দাহ্য পদার্থের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার চেষ্টার পর অবশেষে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, “আমাদের ৭টি ইউনিটের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুনের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

এদিকে, এই অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, যা স্বস্তির খবর হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এই ঘটনা আবারও রাজধানীর শিল্পাঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করা কারখানাগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার যথাযথ উপস্থিতি এবং নিয়মিত তদারকি কতটা কার্যকর—তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ ধরনের কারখানায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ফায়ার ড্রিল এবং নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ থাকলে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

সব মিলিয়ে, বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেলেও এই অগ্নিকাণ্ড একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।