বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পে আগুন: আরও একজনের মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৩

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬

কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার এন.আলম ফিলিং স্টেশন নামক এলপিজি গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ মোতাহের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবু তাহের ও আব্দুর রহিম মারা যান।

গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় চমেক বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন মোতাহের। অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে তিনি মারা যান।

মোতাহেরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ভাতিজা মো. হৃদয় বাবু। তিনি জানান, চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মোতাহেরের চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সময় পরিবর্তন হতে পারে বলেও জানান তিনি।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি কলাতলীর সেই গ্যাসপাম্পে আগুন লাগার সময় সেখানে অন্তত ১৬ জন শ্রমিক ও কর্মচারী দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ১০ জন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখনও ৭ জন আহত চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর থেকেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া গ্যাস পাম্পটি পরিচালনা করায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্যাস পাম্পটির জেলা প্রশাসনের অনাপত্তিপত্র, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিসের অনুমতিপত্র এবং বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স ছিল না। প্রয়োজনীয় এসব অনুমোদন ছাড়াই পাম্পটি পরিচালিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। মামলায় পাম্প মালিক নুরুল আলম প্রকাশ এন আলমকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

নিহতদের স্বজনরা বলছেন, অবহেলা ও অনিয়মের কারণেই তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রাণ দিতে হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।