যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট, বাণিজ্য, জ্বালানি ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, সফরকালে প্রতিমন্ত্রী মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস পল কাপুর-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, রোহিঙ্গা সংকট, ইন্দো-প্যাসিফিক সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের সংলাপের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক ব্যুরোর সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্ড্রু ভেপার্ক-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। উভয় পক্ষ রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একমত হন।
সফরের অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই)-এর প্রেসিডেন্ট ডেনিয়েল টিউনিং-এর সঙ্গেও বৈঠক করেন। তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নে আইআরআইয়ের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার প্রশংসা করেন এবং স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে সংস্থাটির পর্যবেক্ষক দলের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া আটলান্টিক কাউন্সিল আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, অর্থনৈতিক উন্মুক্ততা এবং ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। পাশাপাশি বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রতিমন্ত্রী আটলান্টিক কাউন্সিলের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট জেনা বেন ইয়েহুদা-এর সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, সংখ্যালঘু অধিকার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।