বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ঐক্য ও কার্যকর সংসদ গঠনের আহ্বান জানালেন চিফ হুইপ

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

জাতীয় ঐক্য, কার্যকর সংসদ এবং গণতন্ত্র রক্ষায় সব রাজনৈতিক দলের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি। তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে বিভাজন নয়, বরং ঐক্যের রাজনীতি প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা কেউ মরতে চাই না, সবাই মিলে বাঁচতে চাই— দেশকে বাঁচিয়ে তারপর বাঁচতে চাই”— এই দর্শন নিয়েই সংসদকে এগিয়ে যেতে হবে।

চিফ হুইপ বলেন, বর্তমান সংসদের অনেক সদস্য দীর্ঘ রাজনৈতিক নিপীড়ন, মামলা-হামলা ও দমন-পীড়নের অভিজ্ঞতা নিয়ে এখানে এসেছেন। তাই এই সংসদকে তিনি “মজলুমদের সংসদ” হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরে বলেন, দেশ বারবার সংকট, অস্থিরতা ও বিভাজনের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে নানা চড়াই-উতরাই পেরোতে হয়েছে।

চিফ হুইপ আরও বলেন, অতীতের বিভিন্ন সরকারের সময়ে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ ধাপে ধাপে বর্তমান অবস্থানে এসেছে। তবে এখনও রাজনৈতিক সহনশীলতা ও ঐকমত্যের ঘাটতি রয়ে গেছে।

তিনি বিরোধী দলের বক্তব্যের প্রশংসা করে বলেন, একটি কার্যকর সংসদ গড়ে তুলতে হলে অতীতের সীমাবদ্ধতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। শুধু প্রাণবন্ত নয়, বরং সংসদকে বাস্তব সমস্যার সমাধানমুখী করাই জরুরি।

চিফ হুইপ আরও বলেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সংসদে ঐকমত্য তৈরি হলে জনগণের আস্থা বাড়ে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জ্বালানি ও গ্যাস খাতের আলোচনায় সংসদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, সংসদ সদস্যরা ব্যক্তিগত সুবিধা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং জাতির স্বার্থে কাজকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তার ভাষায়, “ব্যক্তিগত লাভ নয়, দেশের স্বার্থই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

এ সময় তিনি আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ভবিষ্যতে বিলগুলো আরও গভীরভাবে পর্যালোচনার আশ্বাস দেন।

শেষে চিফ হুইপ কৃষক, শ্রমিক ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “রাজনীতি হবে মানুষের জন্য। তাদের জীবনমান উন্নয়নই গণতন্ত্রের প্রকৃত লক্ষ্য।”