বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

এসএসসি পরীক্ষার আগে গাইবান্ধায় ১৫০ শিক্ষার্থীর অ্যাডমিট কার্ডে ভুল

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬

আগামী ২২ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার মাত্র দুই দিন আগে গাইবান্ধায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। জেলার ফুলছড়ি উপজেলার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৫০ শিক্ষার্থীর অ্যাডমিট কার্ডে (প্রবেশপত্র) গুরুতর ভুল ধরা পড়ায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে কঞ্চিপাড়া এম এ ইউ একাডেমিক বিদ্যালয়-এ। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রায়হান সরকার। এর আগে ১৯ এপ্রিল শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে এসব ভুল শনাক্ত করে।

 অ্যাডমিট কার্ডে একাধিক গুরুতর ভুল

জানা গেছে, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় এই বিদ্যালয় থেকে মোট ২১৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়ার কথা। এর মধ্যে মানবিক বিভাগে ১৪৫ জন এবং বিজ্ঞান বিভাগে ৬৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে প্রবেশপত্রে দেখা যায়—

  • অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের নাম ভুল
  • ছেলে শিক্ষার্থীর স্থানে মেয়ের ছবি
  • বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে মানবিক বিভাগ উল্লেখ

এসব ভুলের কারণে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

 অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক শিক্ষক ও কম্পিউটার অপারেটরের সহায়তা না নিয়ে বাইরের একটি দোকান থেকে ফরম পূরণ ও রেজিস্ট্রেশন করানোর কারণে এই ভুল হয়েছে। স্থানীয়দেরও অভিযোগ, ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়ের নিয়মিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে কাজ করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

 প্রধান শিক্ষকের স্বীকারোক্তি

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক রায়হান সরকার বলেন, “আমার কারণে ভুল হয়েছে, এটা আমি স্বীকার করছি। তবে কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে না। আমরা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি।”

 প্রশাসনের আশ্বাস

এ বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা সৈয়দ মনিরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধান করা হবে।

এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। কোনো পরীক্ষার্থী যেন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

এই ঘটনার ফলে এসএসসি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন সবার নজর প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দিকে, যাতে কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।