বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

এনসিটি ইজারার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরে পঞ্চম দিনের কর্মবিরতি, অচল আমদানি-রপ্তানি

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পঞ্চম দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরটির আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই লাগাতার কর্মসূচি পালন করছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। কর্মবিরতির কারণে বন্দরের জেটিগুলোতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও সাধারণ পণ্য ওঠানামাসহ সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেন।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির জানান, টানা পঞ্চম দিনের মতো কর্মবিরতি চলছে এবং বন্দরের সব অপারেশনাল কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এমনকি বহির্নোঙরেও কোনো কাজ হচ্ছে না। তিনি বলেন, এনসিটির ইজারা বাতিল এবং শ্রমিকদের বদলির আদেশ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলমান থাকবে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও জেনারেল কার্গো বার্থসহ বন্দরের সব টার্মিনালে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে বন্দরের সার্বিক কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা নেমে এসেছে।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় জি-টু-জি ভিত্তিতে দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে এনসিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে নেওয়া হলে শ্রমিক-কর্মচারীরা আন্দোলনে নামেন।

প্রথমদিকে আন্দোলন মিছিল ও সমাবেশে সীমাবদ্ধ থাকলেও এনসিটি চুক্তির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেয় বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। বর্তমানে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানারে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, পেশাজীবী ও রাজনৈতিক সংগঠনের সমর্থনে শ্রমিক-কর্মচারীরা ঐক্যবদ্ধভাবে এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।