বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

এনআইডির গোপন আইডি-পাসওয়ার্ডে তথ্য বাণিজ্য, ৩০ দিনে লেনদেন ১১ কোটি টাকা

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য অবৈধভাবে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. হাবীবুল্লাহ (৪১) এবং আউটসোর্সিং ভিত্তিক ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. আলামিন (৩৯)

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার

তিনি জানান, গোপন আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে মাত্র ৩০ দিনে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮টি এনআইডি তথ্য সরবরাহ করেছে এই চক্র। প্রতিটি তথ্য ২০০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করে তারা আনুমানিক ১১ কোটি টাকার অবৈধ আয় করেছে।

সিআইডি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৪ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন অফিস এলাকা থেকে মো. আলামিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকা থেকে মো. হাবীবুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, মো. আলামিনের কাছে নির্বাচন কমিশনের একটি গোপন আইডি ও পাসওয়ার্ড ছিল, যার মাধ্যমে সারা দেশের নাগরিকদের এনআইডি তথ্য যাচাই করা সম্ভব হতো। পূর্বপরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার সূত্রে তিনি ওই আইডি ও পাসওয়ার্ড মো. হাবীবুল্লাহকে সরবরাহ করেন। এর বিনিময়ে প্রতি সপ্তাহে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা উৎকোচ নিতেন আলামিন।

অন্যদিকে, মো. হাবীবুল্লাহ ওই গোপন আইডি ব্যবহার করে সাধারণ নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের সংবেদনশীল তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে বিক্রি করতেন

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এক সপ্তাহেই তারা ১ লাখ ১২ হাজার ১৫০টি এনআইডি তথ্য সরবরাহ করেছেন। আর ৩০ দিনের হিসাবে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮টি। প্রতিটি তথ্য ৩০০ টাকা হিসেবে হিসাব করলে অবৈধ আয়ের পরিমাণ প্রায় ১১ কোটি টাকা

ডিআইজি আবুল বাশার তালুকদার বলেন, এই অর্থ দিয়ে মো. হাবীবুল্লাহ ঢাকায় নিজস্ব ফ্ল্যাটসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বিলাসবহুল জীবনযাপন করে আসছিলেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওটিপি ট্রান্সফারের মাধ্যমে এনআইডি সার্ভারে প্রবেশ করে তথ্য হাতিয়ে নিতেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তা বিক্রি করতেন।

এ ঘটনায় পল্টন মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সিআইডি জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।