বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

এনআইডিতে যুক্ত হতে পারে ‘ডাক নাম’, ভোটার নিবন্ধনে লাগবে স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তির সুপারিশ

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬

জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং জালিয়াতি প্রতিরোধে নতুন দুটি উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এনআইডিতে নাগরিকের মূল নামের পাশাপাশি ‘ডাক নাম’ যুক্ত করা হতে পারে। একই সঙ্গে নতুন ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার কোনো সম্মানিত বা বিশিষ্ট ব্যক্তির সুপারিশ বাধ্যতামূলক করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

এ তথ্য জানিয়েছেন এ এস এম হুমায়ুন কবীর, যিনি জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ (এনআইডি উইং)–এর মহাপরিচালক। তিনি বলেন, অনেক সময় অপরাধীরা ভুয়া পরিচয়ে এনআইডি তৈরি করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ায়। এনআইডিতে ‘ডাক নাম’ যুক্ত করা হলে একজন ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় যাচাই করা আরও সহজ হবে এবং পরিচয় গোপনের সুযোগ কমে আসবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন এই উদ্যোগ নাগরিক শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভুল করতে সহায়তা করবে। কারণ, অনেক ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি পারিবারিক বা স্থানীয়ভাবে ভিন্ন নামে পরিচিত থাকেন, যা সরকারি নথিতে উল্লেখ থাকে না। সেই তথ্য যুক্ত হলে ডেটাবেজ আরও সমৃদ্ধ হবে।

এদিকে বিদেশি নাগরিক বা রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া ঠেকাতেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন। এ লক্ষ্যে ভোটার নিবন্ধনের ফরম–২-এ আবেদনকারীর এলাকার কোনো একজন সম্মানিত ব্যক্তির সুপারিশের জন্য একটি আলাদা ঘর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ইসি কর্মকর্তাদের মতে, স্থানীয় কোনো পরিচিত বা সম্মানিত ব্যক্তির সুপারিশ বাধ্যতামূলক করা হলে প্রকৃত বাসিন্দা শনাক্ত করা সহজ হবে। ফলে রোহিঙ্গা বা বিদেশি নাগরিকদের পক্ষে বাংলাদেশি ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করা অনেক কঠিন হয়ে পড়বে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এনআইডি কার্ডে নাগরিকের নাম, পিতা–মাতার নামসহ মৌলিক তথ্য থাকলেও স্থানীয়ভাবে ব্যবহৃত ‘ডাক নাম’ আলাদাভাবে সংরক্ষিত থাকে না। নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এনআইডির তথ্যভান্ডার আরও বিস্তৃত হবে এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমেও স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।