লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ ঘোষণার মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্য আবারও রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়েছে। স্টারমারের বিদায়ের ফলে গত এক দশকে দেশটি সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে, যা ব্রিটিশ রাজনীতিতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের এক নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।
সোমবার (২২ জুন) দলীয় ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দেন স্টারমার। এরই মধ্যে লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম তার উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে নামার ঘোষণা দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতায় থাকাকালে কনজারভেটিভ পার্টিতে যেভাবে ঘন ঘন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, লেবার পার্টিও এখন একই পথে হাঁটছে।
২০১৬ সালে ব্রেক্সিট গণভোটের পর ডেভিড ক্যামেরনের পদত্যাগের মাধ্যমে শুরু হয় নেতৃত্ব পরিবর্তনের ধারা। এরপর দায়িত্ব নেন থেরেসা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস ও ঋষি সুনাক। ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসেন কিয়ার স্টারমার। তবে দুই বছরেরও কম সময়ের মাথায় তাকেও পদ ছাড়তে হচ্ছে।
স্টারমারের জনপ্রিয়তা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ তার নেতৃত্বকে দুর্বল করে তোলে। শেষ পর্যন্ত নিজ দলের এমপিদের চাপেই তাকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ঘন ঘন নেতৃত্ব পরিবর্তন ব্রিটেনের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।