বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

এক টাকার নিচে থাকা পাঁচ এনবিএফআই শেয়ারে হঠাৎ উত্থান, কারা ঝুঁকি নিয়ে কিনছেন?

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬

ঢাকা: অবসায়ন বা বন্ধের প্রক্রিয়াধীন থাকা ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) শেয়ারে হঠাৎ করে বিনিয়োগকারীদের অস্বাভাবিক আগ্রহ দেখা গেছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুর ২টা পর্যন্ত এক টাকার নিচে থাকা পাঁচটি এনবিএফআইয়ের শেয়ারদর সর্বোচ্চ সার্কিট ব্রেকারে উঠে যায়, একই সঙ্গে লেনদেনও হয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।

এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—

  • পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস

  • ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস

  • এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট

  • ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট

  • প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স

দরবৃদ্ধির চিত্র

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়—

  • পিপলস লিজিংয়ের শেয়ারদর ৭ পয়সা (প্রায় ১১%) বেড়ে ৭২ পয়সা

  • ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের দর ৫ পয়সা (১০%) বেড়ে ৫৫ পয়সা

  • এফএএস ফাইন্যান্সের দর ৭ পয়সা (প্রায় ১১%) বেড়ে ৭২ পয়সা

  • ফারইস্ট ফাইন্যান্সের দর ৬ পয়সা (১০%) বেড়ে ৬৭ পয়সা

  • প্রিমিয়ার লিজিংয়ের দর ৫ পয়সা (প্রায় ১১%) বেড়ে ৫২ পয়সা হয়েছে।

লেনদেনের পরিমাণ

একই দিনে—

  • পিপলস লিজিংয়ের ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৯৮৫টি শেয়ার লেনদেন হয় (মূল্য প্রায় ৩.৫ লাখ টাকা)

  • ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৭ লাখ ৫ হাজার ৫৮৭টি শেয়ার (মূল্য ৩.৮ লাখ টাকা)

  • এফএএস ফাইন্যান্সের ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৩৫৬টি শেয়ার (মূল্য ৪.৭ লাখ টাকা)

  • ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ১০ লাখ ৬৬০টি শেয়ার (মূল্য ৬.৭ লাখ টাকা)

  • প্রিমিয়ার লিজিংয়ের ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৯৮৪টি শেয়ার (মূল্য ৩.৫ লাখ টাকা) লেনদেন হয়।

বিশ্লেষকদের সতর্কতা

বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, অবসায়ন বা বন্ধের তালিকায় থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে এমন দরবৃদ্ধি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্সের সদস্য আল-আমিন বলেন,

“এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য, ক্যাশ ফ্লো ও ইপিএস—সবই নেতিবাচক। এরপরও যদি কেউ এসব শেয়ার কেনে, তাহলে বুঝতে হবে তারা জেনেশুনেই ঝুঁকি নিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, বাজার থেকে কোনো গোষ্ঠী যদি ‘এক্সিট’ নেওয়ার উদ্দেশ্যে গুজব ছড়ায়, তবে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকা উচিত। কারসাজির প্রমাণ মিললে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বিএসইসির অবস্থান

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানান,

“এই শেয়ারগুলোর দাম বৃদ্ধির পেছনে কোনো কারসাজি থাকলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্য এনবিএফআইয়ের অবস্থাও ঊর্ধ্বমুখী

এদিন বন্ধের তালিকায় থাকা আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরও বেড়েছে—

  • বিআইএফসি লিমিটেড: ১০ পয়সা বেড়ে ১ টাকা ৩০ পয়সা

  • প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট: ১০ পয়সা বেড়ে ১ টাকা ১০ পয়সা

  • জিএইপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) পিএলসি: ১০ পয়সা বেড়ে ১ টাকা ৫০ পয়সা

তবে একটি সিকিউরিটিজ হাউজের শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার মাধ্যমে জানা গেছে—বন্ধের তালিকায় থাকা ৯টি এনবিএফআইয়ের সবগুলোই নাও বন্ধ হতে পারে। কিছু প্রতিষ্ঠান বিশেষ শর্তে ছাড় পেতে পারে, যদিও কোনগুলো ছাড় পাবে তা এখনও নিশ্চিত নয়।