তীব্র গরমে স্বস্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিত তরমুজ এখন যেন বিলাসী ফলের তালিকায় চলে যাচ্ছে। ভরা মৌসুমে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার কথা থাকলেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এর দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
রাজধানীর সদরঘাট ও বাদামতলী ঘুরে দেখা গেছে এক বিস্ময়কর চিত্র—মাত্র এক কিলোমিটারের ব্যবধানে একই তরমুজের দামে বিশাল ফারাক। পাইকারি বাজারে যে তরমুজ তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে, খুচরা পর্যায়ে সেটিই দ্বিগুণ দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
খুচরা বিক্রেতাদের তথ্য অনুযায়ী, বড় আকারের তরমুজ (১০–১২ কেজি) ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি সাইজের তরমুজের দাম ৩৫০–৪০০ টাকা, আর ছোট সাইজের তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে ২০০–৩০০ টাকায়।
অন্যদিকে, বাদামতলীর পাইকারি বাজারে একই তরমুজের দাম অনেকটাই কম। বড় তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ২৮০–২৯০ টাকায়, মাঝারি ১৬০–১৮০ টাকায় এবং ছোট তরমুজ মাত্র ৬০–৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ফলে খুব অল্প দূরত্বেই প্রতি তরমুজে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
খুচরা বিক্রেতারা এই পার্থক্যের পেছনে কিছু যুক্তি তুলে ধরছেন। তাদের দাবি, পরিবহন খরচ, দোকান ভাড়া এবং গরমে পণ্য নষ্ট হওয়ার কারণে তাদের ক্ষতি হয়। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতেই বাড়তি দাম নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
অন্যদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে তরমুজ সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট কমিশনে বিক্রি করেন। বাজারে সরবরাহের ওঠানামার ওপর দাম নির্ভর করে।
চাষিদের কাছ থেকে তরমুজ কিনে রাজধানীতে নিয়ে আসা এক ব্যবসায়ী জানান, ক্ষেত থেকে একটি বড় তরমুজ কিনতে ১৮০–২০০ টাকা লাগে। এরপর পরিবহন ও শ্রমিক খরচ যোগ হয়ে দাম বেড়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত খুচরা বাজারে প্রভাব ফেলে।
এদিকে, চড়া দামের কারণে অনেকেই পুরো তরমুজ কিনতে পারছেন না। ফলে ফুটপাতে কেটে বিক্রি করা তরমুজের দিকে ঝুঁকছেন মানুষ। ২০–৩০ টাকায় এক টুকরো তরমুজ কিনে গরমে কিছুটা স্বস্তি খুঁজছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে এত বড় মূল্য ব্যবধান বাজার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। কার্যকর মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।