বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

একুশের অঙ্গীকার—ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে সত্য ও প্রাপ্য স্বীকৃতি নিশ্চিতের দাবি

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে এসে সাধারণ মানুষ ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সঠিকভাবে উপস্থাপন ও সংশ্লিষ্টদের প্রাপ্য স্বীকৃতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, একুশের প্রকৃত চেতনা ধারণ করতে হলে ইতিহাস বিকৃতি বন্ধ করে গবেষণালব্ধ সত্য তুলে ধরা জরুরি।

শনিবার ভোর থেকেই শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানুষের ঢল নামে। খালি পায়ে প্রভাতফেরিতে অংশ নিয়ে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও পরিবার-পরিজনসহ আগত নাগরিকদের কণ্ঠে ছিল একুশের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগ।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অনেকে বলেন, ভাষা আন্দোলন কেবল ১৯৫২ সালের একটি ঘটনা নয়; এটি বাঙালির রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের ভিত্তি। ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম থেকেই পরবর্তী স্বাধিকার আন্দোলনের বীজ রোপিত হয়। তাই ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে কার অবদান কতটুকু—তা নিরপেক্ষ গবেষণা ও প্রামাণ্য তথ্যের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা উচিত।

একজন অভিভাবক বলেন, নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানানো এখন সময়ের দাবি। সন্তানদের নিয়ে শহীদ মিনারে এসে তিনি জানান, “আমরা চাই তারা জানুক কারা জীবন দিয়েছেন, কেন দিয়েছেন এবং সেই আত্মত্যাগের মূল্য কী।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনা দলীয় বা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা অনুচিত। ইতিহাসকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিভ্রান্ত হতে পারে। তাদের মতে, ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ সমগ্র জাতির সম্পদ—এটি কোনো একক গোষ্ঠীর নয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, অনেকেই শিশুদের হাতে ফুল তুলে দিচ্ছেন এবং শহীদদের নাম উচ্চারণ করে শ্রদ্ধা জানাতে শেখাচ্ছেন। কেউ কেউ ভাষা আন্দোলনের পটভূমি ব্যাখ্যা করছেন, কেউ বা কবিতা আবৃত্তি করছেন। পুরো প্রাঙ্গণে ছিল শোক, শ্রদ্ধা ও গর্বের মিশ্র অনুভূতি।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও বাড়ে। শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি ইতিহাসের সত্য সংরক্ষণ ও প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করার প্রত্যাশা উচ্চারিত হতে থাকে নানা কণ্ঠে। একুশের দিনে তাদের এই আহ্বান—ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে যার যা প্রাপ্য, তাকে তা-ই দেওয়া হোক; তবেই শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি যথার্থ সম্মান জানানো সম্ভব।