বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

একই আসনে ভিন্ন দলের হয়ে নির্বাচন করছেন হান্নান মাসউদ ও তার বাবা

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫

একই আসনে ভিন্ন দলের হয়ে নির্বাচন করছেন হান্নান মাসউদ ও তার বাবা
নোয়াখালী–৬ (হাতিয়া) সংসদীয় আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যতিক্রমী ও আলোচিত এক নির্বাচনী লড়াইয়ের মুখোমুখি হচ্ছে হাতিয়াবাসী। একই পরিবারের বাবা ও ছেলে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রতীকে।

বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) হয়ে একতারা প্রতীকে এবং ছেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। এ নিয়ে এলাকায় চলছে আলোচনা, সমালোচনা ও কৌতূহলের শেষ নেই।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন বাবা ও ছেলে উভয়েই।

বাবা–ছেলের একসঙ্গে নির্বাচনী মাঠে নামাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। কেউ বলছেন এটি নবীন ও প্রবীণের প্রতীকী লড়াই, আবার কেউ দেখছেন রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের নতুন এক মাত্রা অথবা ভিন্ন কৌশল। এই ধরনের প্রার্থী বিন্যাস ভোটের মাঠে শক্তির ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে। এতে প্রকৃত রাজনৈতিক আলোচনা ও উন্নয়ন ইস্যুর বদলে শক্তির প্রদর্শনী সামনে চলে আসে, যা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জানা গেছে, নোয়াখালী–৬ (হাতিয়া) আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ১৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী থেকে অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে আবদুল হান্নান মাসউদ, বিএনপি থেকে মো. মাহবুবুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন মোহাম্মদ ফজলুল আজিম, শামীমা আজিম, তানভীর উদ্দিন রাজিব, মুহাম্মদ নুরুল আমীন।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে এ. টি. এম নবী উল্যাহ, নাছিম উদ্দিন মো. বায়েজীদ। অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব, গণঅধিকার পরিষদের মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম শরীফ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মোহাম্মদ আবুল হোসেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই পরিবার থেকে একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীর অংশগ্রহণ কেবল রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি পেশিশক্তির দাপট দেখানোর একটি মাধ্যম। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পরিবার বা গোষ্ঠী এলাকাজুড়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিতে চায় এবং প্রতিপক্ষকে আগে ভাগেই চাপে রাখার কৌশল গ্রহণ করে।

হাতিয়ার বাসিন্দা আবদুস সালাম  বলেন, একই পরিবার থেকে দুই বা ততোধিক প্রার্থীর নির্বাচনে অংশগ্রহণ হাতিয়ার রাজনীতিতে নতুন কোনো বিষয় নয়। এটি মূলত একটি সুপরিকল্পিত কৌশল, যার মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক প্রভাব বজায় রাখা যায়। একাধিক প্রার্থী থাকলে একদিকে যেমন বেশি এজেন্ট নিয়োগ করা সম্ভব হয়, তেমনি মাঠে লোকবল ও শক্তির উপস্থিতিও বাড়ে, যা নির্বাচনের দিন বড় ভূমিকা রাখে।

এ বিষয়ে আব্দুল হান্নান মাসউদ  বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী বাংলাদেশের আন্দোলনে আমি সক্রিয়ভাবে লড়াই করেছি। তবে ভোটের অভিজ্ঞতা আমার জন্য একেবারেই নতুন। ভোটার হওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারিনি। নোয়াখালী–৬ আসনের বাকি ১৩ জনের মধ্যে আমার বাবা একজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ মানুষ। তাই তার মনোনয়নপত্র দাখিল করাকে আমি উৎসাহিত করেছি। ভোটের মাঠে তার কাছ থেকেও নতুন কিছু শেখার সুযোগ হবে। আমি শাপলা কলি প্রতীকে লড়ব এবং বাবার এই নির্বাচনী লড়াইকেও আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।

তবে এ বিষয়ে আব্দুল মালেকের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামবলেন, নোয়াখালীর ছয়টি আসনে ৮৮ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও জমা দিয়েছেন ৬২ জন প্রার্থী। আগামী ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম চলবে।

তিনি আরও জানান, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়ে চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।