উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড, যা ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (NBFI), ঋণ অনিয়ম এবং দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অস্বচ্ছতার কারণে সংকটে পড়েছে। কোম্পানি ২০১৯ সালের পর থেকে নিয়মিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। তবে ২০২০ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সেই বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোম্পানির আর্থিক পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ ছিল।
-
সুদ বাবদ লোকসান: ৬১ কোটি ১৮ লাখ টাকা
-
পরিচালন লোকসান: ১০৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা
-
কর পরবর্তী নিট লোকসান: ৪৩৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা
-
মূলধন ঘাটতি: ৭১১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা
-
যোগ্য মূলধন ঘাটতি: ৫৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা
-
ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় মূলধন ঘাটতি: ৬৫২ কোটি ২১ লাখ টাকা
-
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল কোম্পানি আইন, ২০২৩ অনুযায়ী বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে নতুন বোর্ড গঠন করেছে। নতুন বোর্ডে পাঁচজন পরিচালক নিয়োগ পেয়েছেন।
-
চেয়ারম্যান (স্বতন্ত্র পরিচালক): মো. মুখতার হোসেন
-
স্বতন্ত্র পরিচালকরা: মোহাম্মদ শাফিউল আজম, মো. নিয়ামুল কবির, মো. রফিকুল ইসলাম (FCS)
-
পরিচালক: মো. মাহবুব আলম
বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্য নতুন পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা। নতুন বোর্ডকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কোম্পানিকে আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, পরিচালন ও আর্থিক ত্রুটি দূর করা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃস্থাপন করা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উত্তরা ফাইন্যান্সের নতুন বোর্ডের কার্যক্রম কোম্পানির সংকট মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে মূল চ্যালেঞ্জ হলো ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ ও বড় মূলধন ঘাটতি কমানো, যা সময়সাপেক্ষ এবং কাঠামোগত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন বোর্ডের নেতৃত্বে কোম্পানি নিয়মিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকিতে স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে।