বাংলাদেশে প্রায় ১৭০ বছরের পুরোনো চা শিল্পে উৎপাদন বাড়লেও বাড়তি উৎপাদন খরচে চাপে পড়েছেন বাগান মালিকরা। তেলের দাম বৃদ্ধি, সার ও কীটনাশকের উচ্চমূল্য, বিদ্যুৎ ব্যয় এবং শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির কারণে চা বিক্রি করে উৎপাদন খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে ৯ কোটি ৪৯ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে এবং ২০২৬ সালে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি। চলতি বছর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে বাগান কর্তৃপক্ষের দাবি, উৎপাদন বাড়লেও লাভজনক অবস্থায় নেই অধিকাংশ চা বাগান। শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি বর্তমানে ১৭৮ টাকা ৫০ পয়সা ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়, বিদ্যুৎ বিল এবং কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন, বর্তমান মজুরি দিয়ে পরিবার চালানো কঠিন। তাদের দাবি, চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর ৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধি করা হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে না।
চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, পোকামাকড়ের আক্রমণ, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও পানি সংকটসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে চা শিল্পকে এগিয়ে নিতে কাজ চলছে। দেশের অর্থনীতিতে এ খাত বছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা অবদান রাখছে বলেও জানান তিনি।