সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌর শহরের বাজার গলির হাটখোলা রোডে অবস্থিত মেসার্স হাসান ভ্যারাইটি ষ্টোর নামক দোকানটি জোড়পূর্বক বন্ধ করে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দাদন কারবারি মনোয়ার হোসেন (২৮)’র বিরুদ্ধে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারী বেলা ১২ টার দিকে হাসান ভ্যারাইটি স্টোর নামক ঐ দোকান চলাকালে জোড় করে বন্ধ করে তালা ঝুলিয়ে দেয় দাদন কারবারি। মনোয়ার উল্লাপাড়া পৌরশহরের কাওয়াক মহল্লার মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে। হাসান স্টোরের মালিক ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাসান দ্বারে দ্বারে ঘুরেও পাচ্ছে না এর কোন প্রতিকার। স্থানীয় বণিক সমিতির নেতারা হাসানকে প্রাথমিক ভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এব্যাপারে শুক্রবার রাতে থানায় বাদী হয়ে মনোয়ারকে অভিযুক্ত করে মাহমুদুল হাসান একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।
অভিযোগকারী জানান, উল্লাপাড়া পৌর শহরের মেসার্স হাসান ভ্যারাইটি স্টোর নামে তার একটি ভাড়া নেওয়া ইলেকট্রিক দোকান রয়েছে। আমি (হাসান) অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় আমার ছোট ভাই আব্দুল ওয়াহেদকে মাসিক বেতনে কর্মচারি রেখে দোকান পরিচালনা করি। বেশকিছু দিন ধরে অভিযুক্ত সুদ কারবারি মনোয়ার আমাকে জানায় আমার ভাই ওয়াহেদ ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা সুদ হিসেবে নিয়েছে। টাকাগুলো আমাকেই পরিশোধ করতে হবে। এরপর আমার দোকানে এসে ও মোবাইল ফোনেও একাধিকবার টাকার জন্য বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করে মনোয়ার। আমি তখন বলি আপনি যাকে টাকা দিয়েছেন তার কাছ থেকে টাকা নিন। এর পরেও মনোয়ার টাকার জন্য আমাকে নানা ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। ঘটনার দিন ১৯ ফেব্রুয়ারী সোমবার মনোয়ার তার লোকজন নিয়ে এসে কর্মচারীদের দোকান থেকে বের করে দিয়ে দোকানে তালা লাগিয়ে জোড়পুর্বক বন্ধ করে দেয়। এই সুদ কারবারি অবৈধভাবে তার দোকানটি প্রায় ৬ দিন ধরে বন্ধ করে দিয়েছে। এতে তিনি ব্যবসায়িক ভাবে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এ সময় হাসান আবেগাল্পুত হয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন অনেক দ্বারে ঘুরেও দাদন ব্যবসায়ী মনোয়ারের অবৈধ কর্মকান্ডের বিচার পাননি তিনি। কেউ নেই এই দাদন কারবারির বিচার করার মতো।
এব্যাপারে অভিযুক্ত মনোয়ারকে গণমাধ্যম কর্মীরা প্রশ্ন করলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মিথ্যা। আমি কাউকে ভয় দেখাইনি এবং কারো দোকানে তালা লাগাইনি। ভুক্তভোগী হাসানকে প্রাথমিক ভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম জাহিদুজ্জামান কাকন। পরে সমিতিতে মিটিং করে এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।