উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ-এর পক্ষ থেকে ইরানকে আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব (রেজল্যুশন) পাস করেছে পরিষদটি।
রেজল্যুশনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলার মাধ্যমে ইরান শুধু আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনই করছে না, বরং তা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে। প্রস্তাবে ইরানকে অবিলম্বে সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং জর্ডান-এর ওপর হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবটি উত্থাপনের পর ১৫ সদস্যবিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদের মধ্যে ১৩টি দেশ এর পক্ষে ভোট দেয়। বাকি দুটি দেশ ভোটদান থেকে বিরত থাকে।
এর আগে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে আলোচনা চলে। তবে কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হয়।
এর পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে পৃথক সামরিক অভিযান শুরু করে।
সংঘাতের প্রথম দিনেই নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-সহ অন্তত ৪০ জন সামরিক ও বেসামরিক শীর্ষ কর্মকর্তা। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। এতে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো এবং কয়েকটি তেল ডিপো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটছে।
ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম অপারেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে ১০টির বেশি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সম্প্রতি এই প্রণালিতে মাইন বসানোর অভিযোগও উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে।