বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

‘উটপাখির মতো চোখ বন্ধ করে থাকলে প্রলয় ঠেকানো যাবে না’—সতর্ক করলেন সড়ক উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬

দেশের বর্তমান সামাজিক, প্রশাসনিক ও পরিবেশগত বাস্তবতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, আমরা বাস্তবতা থেকে চোখ ফিরিয়ে উটপাখির মতো বালিতে মাথা গুঁজে আছি। মনে করছি কিছুই হবে না, কিন্তু অন্ধ হলে প্রলয় বন্ধ থাকে না।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে বিআরটিএ আয়োজিত পেশাজীবী পরিবহন চালক ও শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং শব্দদূষণ বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সড়ক উপদেষ্টা বলেন, দেশের সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে— হয় ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, না হলে ধ্বংসের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, “আমি আশা করি, আমরা প্রলয়ের অপেক্ষা না করে আমাদের ভাগ্য পরিবর্তনের পথই বেছে নেব।”

উন্নয়নের নামে দেশ বাস্তবে পিছিয়ে পড়ছে মন্তব্য করে ফাওজুল কবির খান বলেন, পরিবেশ দূষণ, বায়ু দূষণ এবং নগরীর বসবাসযোগ্যতাসহ প্রায় সব সূচকেই বাংলাদেশ খারাপ অবস্থানে রয়েছে। তার ভাষায়, “সব খারাপ ইন্ডিকেটরে আমরা শেষের দিক থেকে প্রথম হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছি।”

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন মানুষের প্রাণহানিকে নিজের সবচেয়ে বড় গ্লানির জায়গা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যখনই দেখি সড়কে একজন মানুষ মারা গেছে, তখনই আমার সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়। প্রতিদিনই মানুষ মারা যাচ্ছে, আর এই সংখ্যা বছর বছর বাড়ছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই চেষ্টা করছি— কীভাবে এই মৃত্যু কমানো যায়।”

আমলাতন্ত্রকে দেশের অগ্রগতির বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করে উপদেষ্টা বলেন, সড়ক সংশ্লিষ্ট নীতিমালা, বিশেষ করে স্ক্র্যাপ নীতিমালা বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। তার অভিযোগ, পরিবর্তনের প্রতি অনীহা, সুযোগ-সুবিধা ও দুর্নীতির মানসিকতা সাধারণ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

চালকদের শাস্তির আগে প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে ফাওজুল কবির খান বলেন, চালককে সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ না দিয়ে শুধু আইন ও শাস্তির কথা বলার নৈতিক অধিকার কারও নেই। আগে জানাতে হবে কী অপরাধ, কী করা যাবে আর কী করা যাবে না।

তিনি জানান, ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের বিদ্যমান পদ্ধতি পরিবর্তন করে নতুন বিধিমালা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সেখানে চালকের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা ও শারীরিক সক্ষমতা—বিশেষ করে দৃষ্টিশক্তি—এসব বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহারের সমালোচনা করে উপদেষ্টা বলেন, উন্নত দেশগুলোতে হর্ন দেওয়া এখন অপমান হিসেবে বিবেচিত হয়। অথচ আমরা উল্টো পথে হাঁটছি। তার মতে, উন্নয়নের নামে বাস্তবে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই পেছনের দিকে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ সড়ক পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।