জমি-প্লটের নিবন্ধন ফি, গেইন ট্যাক্স, স্ট্যাম্প ফি, স্থানীয় সরকার কর ও ভ্যাট মিলিয়ে বর্তমান ব্যয় প্রায় ১১.৫০ শতাংশ। এর ফলে ক্রেতারা প্রকৃত ক্রয়মূল্যে জমি নিবন্ধন করতে অনীহা দেখাচ্ছেন এবং সরকারের রাজস্ব বিপুল ক্ষতির মুখে পড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে জমি ও আবাসন ব্যবসায়ীরা করহার কমিয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে আনার দাবি জানিয়েছে। বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপারস অ্যাসোসিয়েশন মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় জমি-প্লটের নিবন্ধন ফি ও করহার ৬ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, উৎসে করের হার কমালে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে কালো টাকা লেনদেনের প্রবণতা কমবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে।
সংস্থাটি সব মৌজায় বাণিজ্যিক জমির প্রকৃত বাজারদর যাচাই করে কর নির্ধারণের প্রস্তাবও দিয়েছে। ঢাকা শহরের কিছু এলাকায় বাণিজ্যিক প্লটের বাস্তব মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি মূল্য ধার্য হয়, যা ব্যবসায়ীদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করছে।
এদিন আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশও নিবন্ধন কর কমানোর দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি গেইন কর, স্ট্যাম্প শুল্ক ও ফ্ল্যাটের ভ্যাট কমিয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়েছে।
রিহ্যাবের সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, “ভবন নির্মাণ ও জমি উন্নয়ন—উভয় ক্ষেত্রে ক্রেতাদের অতিরিক্ত কর দিতে হয়। প্রবাসীরা টাকা পাঠালেও প্রক্রিয়া জটিল থাকায় অনেক সময় অঘোষিত অর্থ হিসেবে গণ্য হয়, যা বিদেশে চলে যেতে পারে।”
এদিকে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, “জমির নিবন্ধন খরচ মূলত বিক্রেতার দায়িত্ব হলেও বর্তমান সংস্কৃতিতে এটি ক্রেতার ওপর চাপানো হয়। প্রবাসীরা নিয়মিত বৈধ পথে অর্থ পাঠালে সরকার প্রণোদনা দিচ্ছে।”
বৃহত্তরভাবে, ব্যবসায়ীরা বলছেন, করহার কমালে নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সহজ হবে, সেকেন্ডারি মার্কেট বিকাশ পাবে এবং সরকারও রাজস্বের ক্ষতি কমাতে পারবে।