পবিত্র ঈদুল ফিতর-এর টানা ছুটি শেষে কর্মব্যস্ত ঢাকা-তে ফিরতে শুরু করেছে লাখো মানুষ। ছুটি শেষ হওয়ার আগেই পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে রাজধানীতে ফিরে আসছেন, যাতে নির্ধারিত সময়েই কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেন।
সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ট্রেনগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। পরিবারসহ ফেরা যাত্রীর সংখ্যা বেশি হলেও, কেউ কেউ আবার পরিবার গ্রামে রেখে একাই ঢাকায় ফিরছেন।
তবে স্বস্তির এই ফেরার যাত্রায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্রেনের দেরি। যাত্রীদের অভিযোগ, অধিকাংশ ট্রেনই শেষ স্টেশন থেকে ছেড়ে আসতে ১ থেকে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত দেরি করছে। ফলে ঢাকায় পৌঁছাতেও সময় লাগছে বেশি, আর এতে করে কর্মস্থলে সময়মতো যোগ দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ছেন অনেকে।
স্টেশন ঘুরে আরও দেখা যায়, শুধু ঢাকায় আসা ট্রেন নয়—ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোর সময়সূচিও এলোমেলো হয়ে পড়েছে। যেমন, তূর্ণা এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পরেও স্টেশন ছাড়তে পারেনি। একইভাবে পর্যটক এক্সপ্রেস দেরিতে পৌঁছানোয় কক্সবাজারগামী যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। এছাড়া এগারোসিন্ধু এক্সপ্রেস ও তিস্তা এক্সপ্রেস-ও নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে ছেড়েছে।
এ অবস্থায় ঢাকায় আসা ও ঢাকা থেকে যাওয়া—দুই দিকের যাত্রীদেরই ভোগান্তি বেড়েছে। স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের অনেকেই জানান, নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত ১ থেকে ২ ঘণ্টা বেশি অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ঈদ শুরুর আগে ১৭ মার্চ থেকে রাজধানী ফাঁকা হতে শুরু করে। গ্রামে ঈদ উদযাপনে তখন বাস, ট্রেন ও লঞ্চে ছিল ঘরমুখো মানুষের চাপ। তবে ছুটি শেষে আগেভাগে ঢাকায় ফেরা শুরু করায় এবার কিছুটা চাপ কম থাকলেও, ট্রেনের সময়সূচি ঠিক না থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি থেকেই যাচ্ছে।
আগামী মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে অফিস-আদালত খোলার কথা থাকায়, সোমবারই রাজধানীমুখী যাত্রীর চাপ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। যাত্রীদের প্রত্যাশা, এমন ব্যস্ত সময়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কর্তৃপক্ষ আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।