বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ঈদ ঘিরে অনলাইনে কেনাকাটার জোয়ার, এক ক্লিকেই মিলছে শাড়ি-পাঞ্জাবি

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬

আসন্ন ঈদুল ফিতর সামনে রেখে দেশজুড়ে কেনাকাটার আমেজ এখন তুঙ্গে। তবে এবার সেই উৎসবের বাজারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। যানজট, তীব্র গরম আর মার্কেটের উপচে পড়া ভিড় এড়িয়ে অনেক ক্রেতাই ঝুঁকছেন অনলাইন কেনাকাটার দিকে। স্মার্টফোনের একটি ক্লিকেই এখন পাওয়া যাচ্ছে পছন্দের শাড়ি, পাঞ্জাবি কিংবা ঈদের সাজসজ্জার নানা সামগ্রী।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম FacebookInstagram–সহ বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে জমে উঠেছে ঈদ বাজার। বাহারি শাড়ি, থ্রিপিস, লেহেঙ্গা, কাফতান, গয়না থেকে শুরু করে ছেলেদের পাঞ্জাবি-পায়জামা, কাবলি, শার্ট—সবই মিলছে অনলাইনে। পাশাপাশি আতর, পারফিউম, স্মার্টওয়াচ ও ব্র্যান্ডের ঘড়ির চাহিদাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

বিশেষ করে ফেসবুকের নিউজফিড স্ক্রল করলেই চোখে পড়ছে রঙিন সব বিজ্ঞাপন। অনেক উদ্যোক্তা লাইভ সেশনের মাধ্যমে পোশাকের কাপড়, রং ও ডিজাইন সরাসরি ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরছেন। মডেলদের মাধ্যমে শাড়ি, থ্রিপিস কিংবা শিশুদের পোশাক প্রদর্শন করায় ক্রেতারাও সহজেই পণ্য সম্পর্কে ধারণা পাচ্ছেন। একইসঙ্গে হাতে তৈরি ক্লে জুয়েলারি, কুন্দন বা গোল্ড প্লেটেড গয়না এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লিপস্টিক ও স্কিন কেয়ার পণ্যের কম্বো প্যাকও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে পুরুষদের মধ্যেও অনলাইনে কেনাকাটার প্রবণতা বেড়েছে। প্রিমিয়াম কোয়ালিটির পাঞ্জাবি-পায়জামা, কাবলি ও শার্টের পাশাপাশি আতর ও পারফিউমের চাহিদাও বাড়ছে। অনেক উদ্যোক্তা আবার টুপি, জায়নামাজ ও তসবিহ নিয়ে বিশেষ ‘ঈদ গিফট বক্স’ তৈরি করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছেন।

রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এনামুল হাসান বলেন, রোজা ও অফিসের কাজের চাপের কারণে মার্কেটে যাওয়ার সময় পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ফেসবুকের কয়েকটি পেজ থেকে তিনি নিজের জন্য পাঞ্জাবি-পায়জামা এবং স্ত্রীর জন্য সালোয়ার-কামিজ ও গয়না অর্ডার করেছেন। ভিডিওতে কাপড় দেখে অর্ডার দেওয়ায় পণ্যের মান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় এবং মার্কেটের ভিড় এড়ানোও সম্ভব হয়।

রাজধানীর মিরপুর এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী নাঈমা নাহার বলেন, ছোট সন্তান নিয়ে গরমের মধ্যে নিউ মার্কেট বা গাউছিয়ায় যাওয়া বেশ কষ্টকর। তাই এবার তিনি ফেসবুক লাইভ দেখে বাচ্চাদের জামাকাপড় এবং নিজের জন্য জামদানি শাড়ি অর্ডার করেছেন। অনেক পেজে ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ সুবিধা থাকায় পণ্য হাতে পাওয়ার পর মূল্য পরিশোধের সুযোগ থাকায় ঝুঁকিও কম।

এদিকে অনলাইন উদ্যোক্তারা বলছেন, রমজানের মাঝামাঝি সময় থেকেই তাদের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। ইনবক্সে ক্রেতাদের মেসেজের চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা ও গ্রামাঞ্চল থেকেও অর্ডার আসছে। অনেক ক্ষেত্রে জনপ্রিয় ডিজাইনের পাঞ্জাবি-পায়জামা স্টক শেষ হওয়ার আগেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি দেশের বড় ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোও এখন অনলাইনে বেশ সক্রিয়। বিভিন্ন ব্র্যান্ড তাদের নিজস্ব অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে বিশেষ ডিসকাউন্ট, ক্যাশব্যাক এবং ফ্রি ডেলিভারি অফার দিচ্ছে। ক্রেতা আকর্ষণে অনেক অনলাইন শপ আবার ‘বাই ওয়ান গেট ওয়ান’ অফারের মতো প্রচারণাও চালাচ্ছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগিয়ে এবারের ঈদ বাজারে অনলাইন কেনাকাটার প্রবণতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সময় সাশ্রয়, সহজ অর্ডার ও ঘরে বসে পণ্য পাওয়ার সুবিধার কারণে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ঈদ কেনাবেচা দিন দিন আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।