বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল, রাজধানীতে বাড়তি ভাড়া ও ভোগান্তিতে চরম চাপ

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় শুরু হয়েছে ঘরমুখো মানুষের ব্যাপক চাপ। গার্মেন্টস কারখানাগুলোর ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলমুখী যাত্রীদের ঢল নেমেছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক, চিটাগাংরোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে। এতে বাসস্ট্যান্ড, মহাসড়ক ও ফেরিঘাটমুখী সড়কগুলোতে তৈরি হয়েছে তীব্র যানজট ও ভোগান্তি।

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরের পর থেকেই ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের চিটাগাংরোড এলাকায় ঘরমুখো মানুষের ভিড় চোখে পড়ার মতো বেড়ে যায়। গার্মেন্টস শ্রমিকদের উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে বেশি। ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে তারা রাজধানী ছেড়ে নিজ নিজ গ্রামের পথে রওনা দেন। তবে অতিরিক্ত ভাড়া, যানবাহনের সংকট এবং দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে অনেক যাত্রীকে।

যাত্রীরা অভিযোগ করেন, ঈদ মৌসুমকে কেন্দ্র করে কিছু বাসে স্বাভাবিক ভাড়ার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন নিম্নআয়ের শ্রমিক ও গার্মেন্টস কর্মীরা।

গার্মেন্টস কর্মী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, আজ ছুটি পাওয়ার পর পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিই। সাধারণ সময়ে যেখানে ভাড়া ২৩০ টাকা, এখন তা ৪০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও বাস পাচ্ছি না, এ অবস্থায় বাড়ি যাওয়া খুব কষ্টকর হয়ে গেছে।

একই অভিযোগ করেন আরেক শ্রমিক মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান। তিনি জানান, অন্য সময় নীলাচল বাসে পাটুরিয়া পর্যন্ত ভাড়া ২৩০ টাকা হলেও এখন ৪০০ টাকা দাবি করা হচ্ছে। ঈদের সময় এমন অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া শ্রমিকদের জন্য বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।

তবে পরিবহন শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। শ্রাবণ ট্রান্সপোর্টের কন্ট্রাক্টর মো. রুবেল হোসেন বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রীর চাপ অনেক বেশি, আবার সড়কে যানজটও রয়েছে। ফলে ট্রিপ সংখ্যা কমে গেছে। এ কারণে ভাড়া কিছুটা বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে পরিবহন সংকট ও যাত্রীর অতিরিক্ত চাপের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভিড় বাড়ছে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলগামী বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। অনেকে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারার আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বছর ঈদকে সামনে রেখে এই সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলমুখী রুটগুলোতে যাত্রীচাপ বহুগুণ বেড়ে যায়। গার্মেন্টস ছুটি একসঙ্গে হয়ে যাওয়ায় একযোগে হাজার হাজার শ্রমিক গ্রামের পথে রওনা দেন, যার ফলে পরিবহন ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।

শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ট্রাফিক ইনচার্জ জুলহাস উদ্দিন জানান, ঈদ উপলক্ষে সকাল থেকেই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ অনেক বেড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে ঈদের আগ মুহূর্তে রাজধানীজুড়ে ঘরমুখো মানুষের ভিড়, যানজট ও ভাড়া সংকট—সব মিলিয়ে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়ছে।