বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ঈদে এতিম শিশু ও হাজতিদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন গাইবান্ধায়

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে সরকারি শিশু পরিবার (বালক), সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) এবং গাইবান্ধা জেলা কারাগার-এ বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে এতিম শিশু ও হাজতিদের জন্য পরিবেশন করা হয় পোলাও, গরু ও খাসির মাংস, মুরগির রোস্ট, মাছ, পায়েস ও নানা মুখরোচক খাবার।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) দুপুরে গাইবান্ধা শহরের কলেজ রোডে অবস্থিত সরকারি শিশু পরিবার বালকে গিয়ে দেখা যায়, ডাইনিং হলে শিশুদের জন্য সাজানো হয়েছে বিশেষ খাবার। সারিবদ্ধভাবে বসে শিশুরা আনন্দের সঙ্গে খাবার গ্রহণ করছে।

প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদ উপলক্ষ্যে শিশুদের জন্য চার বেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকালে ভুনা খিচুড়ি ও ডিম, দুপুরে পোলাও, গরুর মাংস ও মুরগির রোস্ট, বিকেলে ফুচকা, নিমকি ও মিষ্টি এবং রাতে খাসির মাংস, ভাত ও ডালের আয়োজন রাখা হয়েছে।

শিশু সিয়াম জানায়, বাবা-মা হারানোর কষ্ট থাকলেও ঈদের দিনে এত ভালো খাবার পেয়ে সে অনেক খুশি। আরেক শিশু ফরিদুলও গরুর মাংস ও মুরগির রোস্ট পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে।

সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া একটি গরুর মাংস শিশুদের কয়েকদিন ধরে খাওয়ানো হবে। বর্তমানে শিশু পরিবার বালকে ৬৩ জনের মধ্যে ৪৫ জন শিশু উপস্থিত রয়েছে এবং বালিকা শিশু পরিবারে রয়েছে প্রায় ৭০ জন কন্যাশিশু।

অন্যদিকে গাইবান্ধা জেলা কারাগার-এ ৪৭১ জন হাজতির জন্যও বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকালে পায়েস-মুড়ি, দুপুরে পোলাও, গরু ও খাসির মাংস, মুরগির রোস্ট এবং রাতে রুই মাছ, ভাত ও আলুর দম পরিবেশন করা হচ্ছে।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষ্যে হাজতিরা স্বজনদের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাতের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি সরকারি মোবাইল ফোনে কথা বলার সুযোগ ও বাড়ি থেকে একবেলা খাবার নেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে এতিম শিশু ও কারাবন্দিদের মাঝেও ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।