বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ঈদের বর্জ্য অপসারণে ডিএনসিসির অগ্রগতি, ১৮ হাজার টনের বেশি বর্জ্য সরানোর দাবি

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণে গৃহীত ৭২ ঘণ্টার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। সংস্থাটির প্রশাসক জানান, নগরবাসী, গণমাধ্যমকর্মী এবং সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত সহযোগিতায় রাজধানীর উত্তরাঞ্চলে কোরবানির অধিকাংশ বর্জ্য ইতোমধ্যে অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে।

শনিবার রাতে ডিএনসিসির গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঈদের তৃতীয় দিন শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৮২৭টি ট্রিপের মাধ্যমে ৩ হাজার ৫৫৩ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। ঈদের দিন থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৮ হাজার ৩৪৪ টন বর্জ্য সরানো হয়েছে।

প্রশাসক জানান, ডিএনসিসির ইজারাকৃত ১০টি পশুর হাটের মধ্যে চারটির বর্জ্য সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা হয়েছে। বাকি ছয়টি হাটে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে নগরের বিভিন্ন স্থানে এখনও কোরবানি হওয়ায় নতুন করে সৃষ্ট বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমও অব্যাহত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের তথ্য ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ছড়িয়ে থাকা বর্জ্য দ্রুত শনাক্ত করে অপসারণ করা হয়েছে। এ জন্য তিনি সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান এবং নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে সবার সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসক আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগকে সমন্বয় করে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগর গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোরবানির বর্জ্য অপসারণ শেষ হলেও নিয়মিত গৃহস্থালি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্জ্য অপসারণে ডিএনসিসির ৭৫২টি যানবাহন কাজ করেছে। কয়েকটি যানবাহন সাময়িক যান্ত্রিক ত্রুটিতে পড়লেও বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্যক্রমে কোনো বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি।

দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে প্রশাসক বলেন, এ সিদ্ধান্ত কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে নয়; বরং নিয়মিত গৃহস্থালি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেট্রোরেল সম্পর্কিত কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগও তোলেন তিনি। প্রশাসকের দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মেট্রোরেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভুয়া ছবি ও তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এ বিষয়ে সত্যতা যাচাই করে তথ্য প্রচারের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, ৭২ ঘণ্টার পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপে ৪৮ ঘণ্টার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি শুরু হবে। প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি এ কার্যক্রম তদারকি করবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী এবং মামুনুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ডিএনসিসির দাবি, বর্তমানে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অধিকাংশ সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রয়েছে এবং বাকি বর্জ্যও দ্রুত অপসারণ করা হবে।