ঈদুল ফিতরের পরপরই জয়পুরহাটে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। মাত্র ২৫০ শয্যার হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ধারণক্ষমতার অনেক বেশি, ফলে চিকিৎসা ব্যবস্থায় তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ ও শয্যা সংকট।
বুধবার (১ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত জয়পুরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল-এ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন মোট ৬৮ জন রোগী। এর মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর আগে ভর্তি ছিলেন আরও ৪৩ জন। এদের মধ্যে ২৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও রোগীর চাপ কমেনি। বরং নতুন রোগী যোগ হওয়ায় পরিস্থিতি আবারও জটিল হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বেড সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। আগে যেখানে ১৪টি শয্যা ছিল, রোগীর চাপ সামলাতে তা বাড়িয়ে ৪৪টিতে উন্নীত করা হয়েছে। তবুও জায়গা না পেয়ে অনেক রোগীকে মেঝেতে শুইয়ে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণই এ পরিস্থিতির মূল কারণ। ঈদের সময় অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ, বাসি ও দূষিত খাবার খাওয়া, অপরিচ্ছন্ন পানি ব্যবহার এবং পরিবেশগত কারণেও ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি দেখা যাচ্ছে।
হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. সাইফুল ইসলাম জানান, রোগীর সংখ্যা ওঠানামা করলেও বর্তমানে চাপ বেশি। সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তিনি সবাইকে বাসি খাবার পরিহার ও বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
অন্যদিকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সরদার রাশেদ মোবারক জানান, রোগীর সংখ্যা বাড়ায় ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। ডায়রিয়ার জন্য নতুনভাবে ৪৪ শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং পূর্বের ওয়ার্ডে হাম আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে সেখানে ৫ জন শিশু ভর্তি রয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. আল মামুন জানান, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো নির্দিষ্ট এলাকা থেকে রোগী বেশি আসছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ বাড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে বিশুদ্ধ পানি পান, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।