বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ঈদের ছুটি শেষে কর্মচঞ্চল ঢাকায় ফিরছে ব্যস্ততা, বাড়ছে যানবাহন ও মানুষের চাপ

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির আমেজ কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্যে ফিরছে রাজধানী ঢাকা। কয়েকদিনের তুলনামূলক ফাঁকা সড়ক ও স্বস্তিদায়ক যান চলাচলের পর মঙ্গলবার সকাল থেকে নগরজুড়ে আবারও দেখা গেছে পরিচিত ব্যস্ততার চিত্র। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ, পাশাপাশি কর্মজীবী মানুষের চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ঈদের ছুটি শেষে গত রোববার সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খুলে গেলেও সোমবার পর্যন্ত রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় যানজট ছিল সীমিত। তবে মঙ্গলবার সকালে উত্তরা, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, শ্যাওড়া, ইসিবি চত্বর ও মিরপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে দেখা যায়। বিভিন্ন মোড়ে তৈরি হয় গাড়ির দীর্ঘ সারি এবং ট্রাফিক সিগন্যালগুলোতে যানবাহনকে অপেক্ষা করতে হয়।

সড়কগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের সময় তুলনামূলক ফাঁকা থাকা সড়কগুলোতে আবারও ফিরেছে কর্মব্যস্ত মানুষের পদচারণা। অফিসগামী কর্মী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশার মানুষ সকাল থেকেই নিজ নিজ কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হতে শুরু করেন। ফলে রাজধানীর প্রধান সড়ক ও সংযোগপথগুলোতে যান চলাচলের চাপ ক্রমেই বাড়তে থাকে।

উত্তরা থেকে বিমানবন্দর সড়কে সকাল থেকেই ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস, মোটরসাইকেল এবং গণপরিবহনের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। খিলক্ষেত, কুর্মিটোলা ও শ্যাওড়া এলাকায় অফিসগামী যাত্রীদের ভিড় দেখা যায়। অন্যদিকে ইসিবি চত্বর ও মিরপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের ব্যস্তভাবে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

গণপরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাত্রীচাপ এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলেও প্রতিদিনই তা বাড়ছে। খিলক্ষেত এলাকার একটি বাসের হেলপার রাসেল মিয়া জানান, অনেক মানুষ এখনও গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় ফিরছেন। গত কয়েক দিনের তুলনায় মঙ্গলবার যাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে গেলে যাত্রীচাপ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি মনে করেন।

আরেক বাস হেলপার সুমন বলেন, সকাল থেকেই ঢাকামুখী যাত্রীর সংখ্যা বেশি ছিল। দুপুরের পর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।

এদিকে রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতেও ছিল ফিরতি যাত্রীদের ভিড়। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে দূরপাল্লার বাসে করে মানুষকে ঢাকায় ফিরতে দেখা গেছে। কর্মস্থলে যোগ দিতে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে রাজধানীমুখী মানুষের এই যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।

কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফেরা বেসরকারি চাকরিজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদের ছুটি ভালো কাটলেও এখন আবার কর্মজীবনে ফিরতে হচ্ছে। যাত্রা স্বস্তিদায়ক হলেও বাসভাড়া কিছুটা বেশি গুনতে হয়েছে।

কাপাসিয়া থেকে আসা শারমিন আক্তার জানান, ঈদের ছুটি শেষে কাজে যোগ দিতে ঢাকায় ফিরেছেন। বাসে অতিরিক্ত ভিড় না থাকলেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি ভাড়া দিতে হয়েছে।

ময়মনসিংহ থেকে আসা যাত্রী সাইদুল ইসলামও একই অভিযোগ করে বলেন, পথে বড় কোনো যানজট না থাকলেও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার প্রবণতা এখনও রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রাজধানীতে অধিকাংশ মানুষ ফিরে এলে যানবাহনের চাপ ও যানজট আরও বাড়তে পারে। ফলে ঈদের ছুটির পর স্বস্তির যে পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা দ্রুতই পুরোনো কর্মচঞ্চল ও ব্যস্ত ঢাকার রূপে ফিরে আসছে।

I prefer this response