বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ঈদের ছুটি শেষের আগেই ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ, সরগরম বরিশাল লঞ্চঘাট

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬

ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার আগেই ঢাকামুখী মানুষের ঢল, সরগরম বরিশাল লঞ্চঘাট

পবিত্র ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শেষ হতে এখনও একদিন বাকি থাকলেও কর্মস্থলে সময়মতো যোগ দিতে আগেভাগেই ঢাকামুখী হতে শুরু করেছেন দক্ষিণাঞ্চলের হাজারো কর্মজীবী মানুষ। শনিবার (৩০ মে) দুপুরের পর থেকেই বরিশাল নৌবন্দর ও লঞ্চঘাট এলাকায় যাত্রীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ঈদের আনন্দঘন পরিবেশ শেষে আবারও কর্মব্যস্ত জীবনে ফেরার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তারা।

সরকারি ঘোষণায় ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ঈদের ছুটি নির্ধারিত থাকলেও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং অফিসে নির্ধারিত সময়ে যোগদান নিশ্চিত করতে অনেকেই ছুটি শেষ হওয়ার আগেই রাজধানীর উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। ফলে বরিশাল নদীবন্দরে দেখা দিয়েছে আগাম যাত্রীচাপ।

যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাত্রা নিশ্চিত করতে শনিবার রাতে বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছয়টি বড় যাত্রীবাহী লঞ্চ ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। লঞ্চগুলো হলো— মানামী, সুন্দরবন-১৬, সুরভী-৭, পারাবত-১৮, অ্যাডভেঞ্চার-৯ এবং এম খান-৭। এছাড়াও ঝালকাঠি থেকে একটি লঞ্চ বরিশাল হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে।

দুপুরের পর থেকেই অনেক যাত্রীকে লঞ্চের ডেকে চাদর, মাদুর ও ব্যাগপত্র রেখে আসন নিশ্চিত করতে দেখা যায়। কেউ পরিবার নিয়ে, আবার কেউ একাই দীর্ঘ সময় ধরে লঞ্চঘাটে অপেক্ষা করছেন। রাতের ভিড় এড়াতে অনেকে বিকেলেই লঞ্চে উঠে বসেছেন।

ঢাকাগামী যাত্রী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “সোমবার সকালে অফিসে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং রয়েছে। তাই ছুটি পুরোপুরি শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করে আজই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হচ্ছি। শেষ মুহূর্তের অতিরিক্ত ভিড় এড়াতেই আগে চলে যাচ্ছি।”

উজিরপুর থেকে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী সোহেল রানা বলেন, “ঈদ পরিবারের সঙ্গে খুব ভালো কেটেছে। কিন্তু চাকরির দায়িত্বের কারণে আগেভাগেই ফিরতে হচ্ছে। বিকেলেই লঞ্চে উঠে জায়গা নিশ্চিত করেছি।”

একইভাবে যাত্রী নাজমা বেগম বলেন, “ছোট সন্তান নিয়ে ভ্রমণ করছি। রাতে যাত্রী বেশি হলে চলাফেরা করতে সমস্যা হতে পারে। তাই আগেই লঞ্চে উঠে বসেছি।”

লঞ্চঘাটে দায়িত্বরত কর্মচারীরা জানান, ঈদের আগে যেমন ঘরমুখো মানুষের চাপ ছিল, এখন ঠিক তেমনভাবেই কর্মস্থলে ফেরা মানুষের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। বিশেষ করে শনিবার রাত এবং রবিবার যাত্রীর চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নৌবন্দর সূত্র জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে নদীবন্দরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী বহন রোধ, পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং যাত্রীসেবার মান বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

বরিশাল নদীবন্দর কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “শনিবার রাতে বরিশাল থেকে ছয়টি লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। এছাড়া ঝালকাঠি থেকে একটি লঞ্চ বরিশাল হয়ে ঢাকায় যাবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে।”

ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার এই যাত্রায় বরিশাল লঞ্চঘাটে আবারও ফিরেছে ব্যস্ততা। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকামুখী যাত্রীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং আগামী কয়েকদিন দক্ষিণাঞ্চলের নদীবন্দরগুলোতে একই চিত্র দেখা যাবে।