বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ঢলে মুখর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬

ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ঢল কক্সবাজারে, মুখরিত বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন নগরী কক্সবাজারে নেমেছে পর্যটকদের ঢল। ঈদের তৃতীয় দিন শনিবার (৩০ মে) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে হাজারো পর্যটকের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সমুদ্রের ঢেউ, সৈকতের মনোরম পরিবেশ এবং ঈদের ছুটির আনন্দ মিলিয়ে কক্সবাজার এখন যেন এক প্রাণচঞ্চল পর্যটন নগরীতে পরিণত হয়েছে।

সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টজুড়ে দেখা গেছে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। কেউ সমুদ্রের জলে নেমে আনন্দ উপভোগ করেছেন, কেউ সৈকতে হেঁটেছেন পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে। অনেকে আবার স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত সময় পার করেছেন।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পর্যটকদের উপস্থিতিতে সৈকত এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। মেহেরপুরের গাংনী থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা রবিউল তালুকদার বলেন, “কক্সবাজার সবসময়ই আমাদের পছন্দের ভ্রমণ গন্তব্য। সুযোগ পেলেই পরিবার নিয়ে এখানে চলে আসি। সমুদ্রের কাছে এলে মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যায়, যা অন্য কোথাও পাওয়া কঠিন।”

শুধু সমুদ্রসৈকত নয়, কক্সবাজার জেলার অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোতেও পর্যটকদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি, ইনানী সমুদ্রসৈকত, সোনারপাড়া, পাটুয়ারটেক এবং রামুর বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। অনেক পর্যটক একদিনে একাধিক স্পট ঘুরে দেখার পরিকল্পনা নিয়ে কক্সবাজারে এসেছেন।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক খালেদ হোসেন বলেন, “কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মানের সেবা ও অবকাঠামো আরও উন্নত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যানজট নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা এবং পর্যটকবান্ধব সুবিধা বাড়ানো হলে বিদেশি পর্যটকদেরও আরও বেশি আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে।”

চলতি মৌসুমে উষ্ণ আবহাওয়া এবং তীব্র গরমের কারণে পর্যটক সমাগম নিয়ে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে সেই শঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে। গত দুই দিনে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, “ঈদের শুরুতে পর্যটক কিছুটা কম ছিল। তবে এখন ধীরে ধীরে সংখ্যা বাড়ছে। জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। বর্তমানে হোটেলগুলোর গড় বুকিং প্রায় ৬০ শতাংশ। যদিও রোজার ঈদের তুলনায় ব্যবসা কিছুটা কম, তবুও পরিস্থিতি সন্তোষজনক।”

 

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সৈকতসহ গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, “ঈদের ছুটিতে আগত পর্যটকেরা যাতে নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে সময় কাটাতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। যেকোনো ধরনের সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা মাঠে রয়েছে।”

ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে পর্যটকদের এই ব্যাপক উপস্থিতি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। হোটেল, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আশাবাদী, আগামী কয়েকদিনেও পর্যটকদের এই চাপ অব্যাহত থাকবে।

সমুদ্রের গর্জন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ঈদের আনন্দ একসঙ্গে উপভোগ করতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা মানুষের পদচারণায় এখন মুখর কক্সবাজার। দেশের পর্যটন রাজধানী হিসেবে আবারও নিজের জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিচ্ছে এই সমুদ্র নগরী।