পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ থাকলেও আবহাওয়া পরিস্থিতি সেই আনন্দে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঈদের দিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত লঘুচাপের বর্ধিতাংশের প্রভাবে এই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ঈদের দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির পরিবেশ বিরাজ করতে পারে।
বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু এলাকাতেও ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
তাপমাত্রার বিষয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঈদের দিনে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, ফলে দিনের তুলনায় রাতে কিছুটা স্বস্তি অনুভূত হতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সীতাকুণ্ডে সর্বোচ্চ ১০৩ মিলিমিটার এবং ফেনীতে ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ঢাকায় ৪২ মিলিমিটার, গোপালগঞ্জে ৩৮ মিলিমিটার, ফরিদপুরে ৩৭ মিলিমিটার এবং চট্টগ্রামে ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল খুলনা ও মোংলায়, যেখানে তাপমাত্রা যথাক্রমে ৩৫ দশমিক ৬ এবং ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঈদের দিনের পরও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। ২৯ মে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে ৩০ মে থেকে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ৩১ মে উপকূলীয় অঞ্চলে আবারও বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। একইসঙ্গে পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগরে নতুন একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলেও জানিয়েছে