বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ঈদের আগমুহূর্তে গাবতলী পশুর হাটে বিক্রি বেড়েছে, দাম কমে হতাশ বিক্রেতারা

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬
রাত পোহালেই দেশজুড়ে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। ত্যাগের এই মহোৎসবকে সামনে রেখে রাজধানীর বৃহত্তম পশুর হাটগুলোর একটি গাবতলী গবাদি পশুর হাটে বেড়েছে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের উপস্থিতি। তবে বিক্রি বাড়লেও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেক বিক্রেতা। তাদের দাবি, ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে গরুর দাম প্রত্যাশার তুলনায় কমে গেছে। অন্যদিকে টানা বৃষ্টির কারণে হাটজুড়ে কাদা-পানির সৃষ্টি হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।

সকাল থেকেই গাবতলী পশুর হাটে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়তে দেখা যায়। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে হাটের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে কর্দমাক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এতে পশু নিয়ে চলাচল, দেখাশোনা এবং কেনাবেচা করতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে সবাইকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাটের অনেক স্থানে কাদা এতটাই বেশি যে হাঁটাচলাই কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা খামারি ও ব্যবসায়ীরা পশু নামানো, বেঁধে রাখা এবং ক্রেতাদের কাছে প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ছেন। তারা দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও হাটের পরিবেশ উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন।

জামালপুর থেকে আসা বিক্রেতা ফরহাদ হোসেন জানান, তিনি ২২টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। এর মধ্যে ১৫টি গরু বিক্রি হয়েছে। তবে বাজার পরিস্থিতি প্রত্যাশামতো নয় বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, বিক্রি হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যাচ্ছে না।

কুষ্টিয়া থেকে আসা ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রায় ১০ মণ ওজনের একটি গরুর দাম বাড়িতে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বলা হয়েছিল। কিন্তু হাটে এসে ক্রেতারা সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম বলছেন। এতে লাভের পরিবর্তে লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে আসা ইদ্রিস মোল্লা জানান, তিনি দুটি বড় গরু নিয়ে এসেছেন। প্রায় ১৪ মণ ওজনের গরু দুটির জন্য বাড়িতে ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রস্তাব পেলেও হাটে ক্রেতারা তুলনামূলক কম দাম বলছেন। তার মতে, পশুর খাবার ও পরিচর্যার ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ায় কম দামে বিক্রি করলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

অন্যদিকে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির আভাসও দেখা গেছে। রাজধানীর শ্যামলী থেকে গরু কিনতে আসা রফিকুল ইসলাম শান্ত বলেন, বৃষ্টির কারণে ভালোভাবে গরু দেখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে দাম কিছুটা সহনীয় মনে হচ্ছে। পছন্দ হলে আজই গরু কিনে ফেলবেন বলেও জানান তিনি।

বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, গতকালের তুলনায় আজ গরুর দাম অনেকটাই কমে গেছে। যে গরু দুই লাখ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা, সেটি দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। তার মতে, সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকায় বাজারে দামেও প্রভাব পড়েছে।

ঈদের আগ মুহূর্তে গাবতলী পশুর হাটে একদিকে বিক্রি বাড়লেও অন্যদিকে দাম কমে যাওয়া এবং বিরূপ আবহাওয়ার কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।