আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ঘরমুখো যাত্রী ও কোরবানির পশুবাহী যানবাহনের নির্বিঘ্ন পারাপার নিশ্চিত করতে দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া নৌরুটে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ রুটে ১৭টি ফেরি এবং ২০টি লঞ্চ চলাচল করবে বলে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা ও যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় জানানো হয়, ঈদের আগে ও পরে পাঁচ দিন করে নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকবে, যাতে নৌরুটে চাপ কমে। পাশাপাশি ফেরিতে ওঠার সময় যাত্রীদের বাস থেকে নেমে যাওয়ার নির্দেশনা কার্যকর করা হবে।
নিরাপত্তার স্বার্থে লঞ্চে লাইফ জ্যাকেট ও বয়া রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এছাড়া ঘাট এলাকায় চারজন ফায়ার সার্ভিস ডুবুরি স্ট্যান্ডবাই থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মোকাবিলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যাত্রীদের সুবিধার্থে ওয়াশ ব্লক, নারীদের জন্য ব্রেস্টফিডিং কর্নার, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং দৌলতদিয়া বাইপাস সড়কে রাতের আলোর ব্যবস্থা করা হবে। যানজট এড়াতে পন্টুনে রিকশা ও ইজিবাইক চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি জানিয়েছে, ঈদ মৌসুমে রো-রো, ইউটিলিটি ও কে-টাইপসহ মোট ১৭টি ফেরি সচল থাকবে। অন্যদিকে লঞ্চ মালিক সমিতি জানিয়েছে, দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া রুটে ২০টি এবং আরিচা–কাজিরহাট রুটে ১২টি লঞ্চ চলবে।
জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, যাত্রী নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের বাস থেকে নামার নিয়ম কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই ঈদযাত্রা নিরাপদ ও দুর্ঘটনামুক্ত হোক।”