ঈদযাত্রার চাপ ও বগুড়ার দুর্ঘটনার প্রভাবে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছাদ ভর্তি যাত্রী নিয়ে প্রায় ৫ ঘণ্টা বিলম্বে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে যায়। এর আগে বুধবার বগুড়ার সান্তাহারে দুর্ঘটনার পর ট্রেনটি কয়েকটি কোচ নিয়ে প্রায় ৪ ঘণ্টা বিলম্বে ঢাকায় ফিরেছিল।
বগুড়ার সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার সময় নয়টি কোচ লাইনচ্যুত হয় এবং অন্তত ৬৬ জন যাত্রী আহত হন। এই ঘটনায় ঈদযাত্রা আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বেলা ১১:৪৫ মিনিটে ট্রেনটি ৭ নম্বর প্লাটফর্ম থেকে চিলাহাটি স্টেশনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়, যদিও ট্রেনটির নির্ধারিত ছাড়ার সময় ছিল ভোর ৬:৪৫ মিনিট।
সকালে প্লাটফর্মে যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করেন। কোচের ভেতরের দাঁড়ানোর জায়গা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় অনেকে বাধ্য হয়ে ট্রেনের ছাদে উঠেন, যা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করে।
ট্রেনের যাত্রী ইসরাফিল আলী, একজন গার্মেন্টস কর্মী, জানান, ভোরে নারায়ণগঞ্জ থেকে স্টেশনে এসে ট্রেন না পেয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। “প্রথমে ট্রেন ছাড়বে সকাল ১০:১০ মিনিটে বলেছিল, পরে শিডিউল মুছে যাওয়ায় সময় বোঝা কঠিন হয়ে গিয়েছিল। এখন অন্তত ট্রেনে উঠতে পেরেছি,” তিনি বলেন।
অন্য এক যাত্রী মনিরুজ্জামান সৈয়দপুরগামী। কোচে জায়গা না পাওয়ায় তিনি শেষ পর্যন্ত ছাদে ওঠেন। তিনি জানান, “ট্রেনে উঠতে পেরেছি, আল্লাহ ভরসা। গতকালের মতো আর কোনো দুর্ঘটনা না হলে বাড়িতে পৌঁছাতে পারবো।”
ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার মো. সাজেদুল ইসলাম জানান, গতকাল ট্রেনটি ৪ ঘণ্টা বিলম্বে ঢাকায় এসেছে এবং কোচের স্বল্পতার কারণে নতুন কোচ সংযোজন করতে সময় লাগায় ট্রেনটি আজও ছাড়তে বিলম্বিত হয়েছে।
যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্টেশন কর্তৃপক্ষ এবং রেলওয়ে কর্মকর্তারা সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।