বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ড: শিক্ষার্থী ও পরিবার প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬

কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে শহর। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ এবং পুলিশ সুপার কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন নিহতের পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল থেকেই কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর গেইটে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়। এক ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধের পর শিক্ষার্থীরা কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করেন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান এবং তার সন্তান, পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, “আসামি বিশ্বজিৎ ও শ্যাম সুন্দর হাইকোর্টে ঘুরাঘুরি করছে কিন্তু প্রশাসন তাদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপকের নিরাপত্তা যদি নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থী বা জনগণের নিরাপত্তা কোথায়?”

নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান জানান, “আমার স্ত্রী মৃত্যুর আগে যে ষড়যন্ত্রের শিকার ছিলেন, সেই ষড়যন্ত্র এখনও কার্যকর। প্রশাসন দেখবে, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ তছরূপ ও অনিয়মের বিষয়গুলো নির্ধারণে কোনো ছাড় দেব না। মূল আসামি ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হলেও, অন্যান্য আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা করতে হবে।”

পরবর্তীতে, পরিবার ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শওকত মো. হাসান ইমামের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি সোহান বলেন, “রুনা হত্যার এক মাস পার হলেও এখনো কোনো মূল আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, মূল আসামি রিমান্ডে নিয়ে বাকি আসামিদের সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো পর্যাপ্ত সহযোগিতা দেখায়নি। যদি ভবিষ্যতেও এমন অবস্থা থাকে, আমরা ভিসি কার্যালয় ঘেরাও করব।”

প্রসঙ্গত, গত ৪ মার্চ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের দায়েরকৃত মামলায় প্রধান আসামি ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য আসামিরা হলেন— বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, শ্যাম সুন্দর সরকারহাবিবুর রহমান

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশাসনের ওপর জনমনে চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীরা দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছেন।