ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বিদেশি বিশেষ শাখা কুদ্স ফোর্সের আন্ডারকভার ইউনিটের প্রধান আসগর বাকেরিকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল। সোমবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোহানি এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে ইরান এখনো এই দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে আসগর বাকেরি ইসরায়েল ও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন এবং ইসরায়েল, সিরিয়া ও লেবাননের বিভিন্ন অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
আইআরজিসি গঠিত হয়েছিল ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর, দেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে। এই বাহিনীর কুদ্স ফোর্স বিদেশে অপ্রচলিত যুদ্ধ ও গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং বিভিন্ন বিদেশী শিয়া মিলিশিয়া ও হিজবুল্লাহকে প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন ও সহায়তা প্রদান করে থাকে। এই বাহিনীর সদস্য সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার।
সাম্প্রতিক সংঘর্ষ
- সোমবার তেহরানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আইআরজিসির গোয়েন্দা প্রধান মজিদ খাদেমি নিহত হন।
- ২০২৫ সালে খাদেমি আইআরজিসির জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
- গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের ৩৮তম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন হামলায় তেহরানে ২৫ জনেরও বেশি নিহত হয়।
- একই দিনে ইসরায়েল ও পারস্য উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
বিশ্লেষণ
বাকেরি ও খাদেমির হত্যার দাবি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে গোপনীয় গোয়েন্দা সংঘর্ষ এখন উন্মুক্ত সামরিক উত্তেজনার দিকে যেতে পারে। ইরানের কুদ্স ফোর্স বিদেশে সক্রিয় শিয়া মিলিশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের কারণে এই হত্যার প্রভাব শুধু তেহরানেই সীমিত থাকবে না, বরং লেবানন, সিরিয়া, আফগানিস্তান ও ফিলিস্তিনেও তা প্রতিফলিত হতে পারে।