ইসরায়েলের সঙ্গে লেবানন সরকারের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। হিজবুল্লাহ-ঘনিষ্ঠ আইনপ্রণেতা হাসান ফাদাল্লাহ সতর্ক করে বলেছেন, এ চুক্তির ফলে লেবাননে নতুন করে গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
হাসান ফাদাল্লাহ চুক্তিটির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এটি দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তার মতে, লেবাননের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও প্রতিরোধ শক্তির অবস্থান বিবেচনায় না নিয়ে এমন চুক্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা করলে সংঘাত আরও বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ১৪ দফার একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ বন্ধের পাশাপাশি হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর অংশ হিসেবে লেবাননের সেনাবাহিনীকে সশস্ত্র গোষ্ঠীটির কাছ থেকে অস্ত্র সমর্পণ নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
চুক্তি ঘোষণার পরপরই হিজবুল্লাহ তা প্রত্যাখ্যান করে। সংগঠনটির দাবি, এ যুদ্ধবিরতি বাস্তবে কার্যকর হবে না এবং এটি তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ অউন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে বলেন, সরকার চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তার এই অবস্থানের পরই হিজবুল্লাহ-ঘনিষ্ঠ মহল থেকে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া আসে।
এর আগে হিজবুল্লাহ মহাসচিব নাঈম কাসেম এক বিবৃতিতে বলেন, লেবানন সরকার ও ইসরায়েলের মধ্যে হওয়া এই চুক্তিকে তারা বাতিল ও অকার্যকর হিসেবে বিবেচনা করবেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, এ ধরনের সমঝোতা লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এবং হিজবুল্লাহর প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে লেবাননের সামনের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।