বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ইশতেহার বাস্তবায়নে গড়িমসি করলে নৈতিক বৈধতা হারাবে বিএনপি—চরমোনাই পীর

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ ও কওমি মাদরাসা সংক্রান্ত ইশতেহার বাস্তবায়নে গড়িমসি করলে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার হারাবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, যিনি শায়েখে চরমোনাই নামেও পরিচিত।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর বিএমএ মিলনায়তন-এ জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত “দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগে আমাদের করণীয়” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের ইশতেহার হলো জনগণের সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি। ভোটাররা সেই প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রেখেই ভোট দেন। তাই কোনো দল ক্ষমতায় গিয়ে ইশতেহার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে তার নৈতিক ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয় এবং ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকারও থাকে না।

শায়েখে চরমোনাই আরও বলেন, বিএনপি তাদের ইশতেহারে কওমি মাদরাসা বিষয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে কোনো গড়িমসি হলে তা জাতির সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হবে।

সভায় বক্তারা প্রাথমিক শিক্ষায় ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরেন। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ–এর যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, দাওরায়ে হাদিসের মান ও স্বীকৃতি নিয়ে পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ বাধ্যতামূলক করতে হবে।

খেলাফত মজলিস–এর নায়েবে আমির মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনীহা থাকলে আন্দোলনের পথও খোলা থাকবে। তবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ রয়েছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ধর্মীয় শিক্ষকের নিয়োগ শুধু একটি দাবি নয়, বরং জাতীয় স্বার্থ ও মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিষয়। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, দাবি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলনের পথে যেতে হতে পারে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সভাপতি মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ। তিনি বলেন, কওমি মাদরাসার উচ্চতর শিক্ষার্থীরা বহুমুখী জ্ঞানসম্পন্ন, তাদেরকে মূলধারার চাকরি ও শিক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত করা গেলে দেশ উপকৃত হবে।

সভাটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুফতী রেজাউল করীম আবরার। এতে বিভিন্ন ইসলামী ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।