বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ইরান-যুদ্ধে আমিরাত রক্ষায় ইসরায়েলের ‘আয়রন ডোম’ মোতায়েন, সেনা পাঠানোর তথ্য ফাঁস

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) রক্ষায় ইসরায়েল তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ মোতায়েন করেছিল এবং সেই সঙ্গে দেশটিতে সেনাও পাঠিয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে প্রথমবারের মতো কোনো দেশে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের ঘটনা এটি।

প্রতিবেদনে ইসরায়েলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, যুদ্ধের শুরুতে ইরান থেকে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটি মিত্রদের সহায়তা চায়।

ইউএই’র প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় ইরান প্রায় ৫৫০টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২,২০০-এর বেশি ড্রোন ছুড়েছে বলে দাবি করা হয়। এসব হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমিরাত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও ইউএই প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান-এর মধ্যে ফোনালাপের পর এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

‘আয়রন ডোম’ ব্যবস্থাটি ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকজন ইসরায়েলি সেনা এই সিস্টেম পরিচালনার জন্য ইউএই-তে মোতায়েন ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

২০২০ সালের ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর মাধ্যমে ইসরায়েল ও ইউএই’র কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েল নিজেও ব্যাপক হামলার মুখে ছিল, এমন অবস্থায় দেশের বাইরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হতে পারে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইউএই’র এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, যুদ্ধকালীন সময়ে ইসরায়েলের সহায়তা তারা ভুলবে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশের ভূমিকাও প্রশংসা করেন তিনি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে এমন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নিয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-ও অনুপ্রাণিত হয়ে নিজস্ব ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে মহাকাশভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।