তেল আবিব: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান–এর সম্ভাব্য নতুন চুক্তিকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতি ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কিত কয়েকটি বিষয় নিয়ে তিনি আপত্তি জানিয়েছেন বলে জানিয়েছে The Times of Israel।
রোববার (২৪ মে) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সংঘাত বন্ধের কথা রয়েছে। এর মধ্যে লেবানন সীমান্তে সংঘাতও অন্তর্ভুক্ত। নেতানিয়াহু মনে করছেন, এতে হিজবুল্লাহ নতুন করে শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ পেতে পারে।
এ ছাড়া সম্ভাব্য চুক্তির খসড়ায় ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম সরাসরি অন্তর্ভুক্ত না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি এবং উত্তেজনা কমাতে একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। সম্ভাব্য এই চুক্তির আওতায় বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হতে পারে।
চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ইরান হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেবে এবং সেখানে কোনো টোল আরোপ করবে না। একই সঙ্গে প্রণালিতে স্থাপন করা মাইন অপসারণের প্রতিশ্রুতিও দিতে পারে তেহরান।
বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে এবং নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নিতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল রপ্তানি সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক্সিওসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান মৌখিকভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার এবং ইতোমধ্যে সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম ত্যাগের ইঙ্গিত দিয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার আশ্বাসও দিতে পারে দেশটি।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই চুক্তি কার্যকর হলে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতও প্রশমিত হতে পারে। তবে হিজবুল্লাহ নতুন করে হামলা চালালে ইসরায়েলকে পাল্টা জবাব দেওয়ার সুযোগ রাখা হবে।