বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে, হরমুজ খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত তেহরানের

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬

ওয়াশিংটন: দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের পর নতুন সমঝোতার পথে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রইরান। সম্ভাব্য একটি চুক্তির আওতায় ইরান হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে, আর এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে বলে জানা গেছে।

রোববার (২৪ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios–কে দেওয়া এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির বর্তমান মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে।

মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা দেবে না এবং সেখানে আর কোনো টোল আদায় করবে না। পাশাপাশি প্রণালির বিভিন্ন অংশে স্থাপন করা মাইন অপসারণের প্রতিশ্রুতিও দেবে তেহরান।

এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে এবং নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নিতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল রপ্তানি সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সম্ভাব্য এই সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবে এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেবে।

এক্সিওসের বরাতে আরও জানা গেছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান মৌখিকভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার এবং ইতোমধ্যে সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, চুক্তি সম্পন্ন হলে হিজবুল্লাহইসরায়েল–এর মধ্যকার সংঘাতও প্রশমিত হতে পারে। তবে হিজবুল্লাহ নতুন করে হামলা বা উসকানি দিলে ইসরায়েলকে প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ রাখা হবে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যে শর্তগুলো তুলে ধরেছেন, সেগুলো মেনে নিলে দুই দেশের মধ্যে পুনরায় কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পথও খুলে যেতে পারে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবে বড় ধরনের স্বস্তি পেতে পারে ইরান।