বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি: ১০ দফা প্রস্তাবে আলোচনার পথে অগ্রগতি

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

ইরান ঘোষণা করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘নীতিগতভাবে’ তাদের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনা মেনে নিয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সম্ভাব্য আলোচনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। তবে তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি; চূড়ান্ত সমঝোতা নির্ভর করছে শর্ত পূরণ এবং বিস্তারিত বিষয় চূড়ান্ত করার ওপর।

বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, তাদের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই প্রস্তাব ভবিষ্যৎ আলোচনার কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। এতে সম্ভাব্য বৃহত্তর চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করা হবে।

প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো হলো:

  1. ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।
  2. ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে সব ধরনের আগ্রাসন বন্ধ থাকবে।
  3. যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যসহ এই অঞ্চলের যুদ্ধে অংশ নেওয়া বাহিনী প্রত্যাহার করবে এবং আঞ্চলিক ঘাঁটি থেকে ইরানের ওপর হামলা বন্ধ রাখবে।
  4. দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালিতে সীমিত জাহাজ চলাচল অনুমোদন, যা ‘সেফ প্যাসেজ প্রটোকল’ ও ইরানের নিয়ম অনুযায়ী হবে।
  5. ইরানের ওপর আরোপিত সব প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।
  6. যুদ্ধের কারণে ইরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে বিনিয়োগ ও আর্থিক তহবিল গঠন করা হবে।
  7. পারমাণবিক উপাদান সমৃদ্ধ করার ইরানের অধিকারকে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দেবে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধির মাত্রা নিয়ে আলোচনা করবে।
  8. অঞ্চলীয় দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক শান্তিচুক্তি আলোচনা অনুমোদন।
  9. সব প্রতিরোধ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অনাগ্রাসন নীতি সম্প্রসারণ।
  10. সব প্রতিশ্রুতি জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদন।

ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এই আলোচনার শুরু মানেই যুদ্ধ শেষ নয়। চূড়ান্ত চুক্তি নির্ভর করবে ইরানের শর্ত পূরণ এবং বিস্তারিত বিষয়গুলো চূড়ান্ত করার ওপর। আলোচনা চলাকালীন হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা হবে, যা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত হবে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে এই আলোচনার আয়োজন আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে শুরু হবে। সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ চলবে, তবে পারস্পরিক সম্মতিতে সময় বাড়ানো যেতে পারে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে হামলা স্থগিত রাখবে এবং তেহরানের প্রস্তাবকে আলোচনার জন্য কার্যকর ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১০ দফা প্রস্তাব এবং ইসলামাবাদ আলোচনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে সাময়িক শান্তি স্থাপনের পাশাপাশি ভবিষ্যতের স্থায়ী সমঝোতার পথও উন্মুক্ত হতে পারে।